• মাসে এক-দু’বার দেখা করা মানেই স্বাভাবিক দাম্পত্য নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
    এই সময় | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • মাসে এক-দু’বার দেখা করা বা কাছে আসা স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন হতে পারে না। বিবাহবিচ্ছেদের এক মামলার শুনানিতে স্বামী ও স্ত্রীয়ের মধ্যে স্বাভাবিক দাম্পত্যের সংজ্ঞার ব্যাখ্যায় এমনই পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের। এর ভিত্তিতেই আদালত দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা থাকা এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদে অনুমোদন দিয়েছে।

    গত ৮ জানুয়ারি বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে বিবাহবিচ্ছেদের একটি মামলা। ২০১৫ সাল থেকেই আলাদা থাকছেন ওই দম্পতি। ছেলের সঙ্গে থাকার বাসনায় স্ত্রীকে ডির্ভোস দিতে চাইছিলেন না ওই ব্যক্তি। কিন্তু শুনানিতে উঠে আসে ওই ব্যক্তি পিতার দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হলেও স্বামী হিসেবে এই দাম্পত্যে তাঁর কোনও ভূমিকাই নেই। শুধু সন্তানের জন্যই এই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে চাইছিলেন ওই ব্যক্তি বলে দাবি করেন তাঁর স্ত্রীয়ের আইনজীবী। একইসঙ্গে তাঁর স্ত্রী আদালতে দাবি করেন, স্বামী মোটেও তাঁর প্রতি যত্নশীল নন। স্বামী-স্ত্রীয়ের সম্পর্কে তাঁর কোনও ভালোবাসাই নেই।

    জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালে বিয়ে হয় দম্পতির। স্ত্রী পেশায় চিকিৎসক। ২০১১ সালে জন্ম হয় তাঁদের পুত্রের। কর্মসূত্রে ২০১৫ সালে কার্শিয়াঙে চলে যান ওই মহিলা চিকিৎসক। তিনি জানিয়েছেন, ছেলের সঙ্গে দেখা করতে স্বামী সেখানে মাঝেমাঝে আসতেন কিন্তু তাঁদের মধ্যে কোনও তথাকথিত দাম্পত্য সম্পর্ক নেই। ক্রমাগত অমনোযোগ ও স্ত্রীর প্রতি অযত্ন —এর যুক্তি তুলে ধরে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ওই মহিলা চিকিৎসক। এ ছাড়া স্বামীর বিরুদ্ধে মানসিক ও মৌখিক নির্যাতনেরও অভিযোগ এনেছেন তিনি।

    Special Marriage Act, 1954-এর অধীনে স্ত্রীর প্রতি অমনোযোগ ও অযত্নের যুক্তিকে আদালত বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ কারণ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই সম্পর্কে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৩-এ সুপ্রিম কোর্টে হওয়া একটি কেসের উল্লেখও করেন। আদালত জানায়, মাঝেমধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ মোটেও যৌথ বৈবাহিক জীবনযাপন নয়। দম্পতির বহু বছর ধরে আলাদা থাকা, স্বামীর আচরণ ও সম্পর্কের অবনতির বিষয়গুলি বিবেচনা করে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করে আদালত।

    তবে একইসঙ্গে সন্তানের সঙ্গে পিতার সম্পর্কের বিষয়টিও মাথায় রেখে বিশেষ কিছু শর্ত দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ । যেমন, মাসে অন্তত এক বার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন ওই ব্যক্তি। মাসের প্রথম রবিবারে দুপুর ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে পর্যন্ত যে কোনও প্রকাশ্য স্থানে ছেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন ওই ব্যক্তি। তবে জায়গাটি স্ত্রীয়ের বাড়ির ২ কিলোমিটারের মধ্যে হতে হবে।

  • Link to this news (এই সময়)