চাঁদকুমার বড়াল
‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’। মহম্মদ নাজিম উদ্দিনের এই বিখ্যাত উপন্যাস অনেকেই পড়েছেন। উপন্যাস সিরিজ়ে মানুষের মাংস খাওয়ার গল্প চমকে দিয়েছিল পাঠককে। ব্রিটিশ লেখক পিয়ার্স পল রিডের ‘অ্যালাইভ’ নামে বইটিতেও উঠে এসেছে একই ধরনের তথ্য। ১৯৭২ সালে আন্দিজ পর্বতমালার প্লেন দুর্ঘটনার পরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝে বাঁচার তাগিদে মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিলেন বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা। ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশের কোরোওয়াই উপজাতিকে অনেক সময়ে ‘নরখাদক’ বলা হয়। যদিও সেই অভ্যাসের ইতি হয়েছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গে খোঁজ মিলল নরখাদকের? দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থানা এলাকার ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশকেও।
দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থানা এলাকায় এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে খুন করার অভিযোগ। খুনের মোটিভ হিসেবে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুন করে দেহ জল দিয়ে ধোয়া হয়, তার মাংস খাওয়ার জন্য। পরবর্তীতে সেই কাজে সফল না হওয়ায় ফাঁকা মাঠে ফেলে আসা হয় মৃতদেহ। ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে এলাকায়। এটিকে ‘বিরলতম অপরাধ’ বলে দাবি পুলিশের।
গত শনিবার বিকেলে দিনহাটা মহকুমার সাহেবগঞ্জ থানা এলাকার একেবারে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা কুর্শাহাটে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির গলাকাটা দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরবর্তীতে তদন্তে নেমে তারা জানতে পারে স্থানীয় একটি শ্মশানেই এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই ব্যক্তি থাকতেন। কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন তিনি। তাঁকে কে বা কারা হত্যা করেছে? কেনই বা হত্যা করা হয়েছে তা নিয়ে ধন্দে পড়েছে পুলিশ। নির্জন ওই এলাকায় কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় সমস্যা আরও বাড়ে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সোর্স লাগিয়ে এবং স্থানীয় স্তরে খবর পেয়ে তারা ফিরদৌস আলম (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক তথ্য।
দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র সোমবার জানিয়েছেন, ফিরদৌস আলম নামে ওই যুবকের বাড়ি এলাকারই সরাইথানা গ্রামে। সে খুন করার কথা স্বীকার করে। খুন করার পরে দেহটি সে বাড়িতে নিয়ে আসে। দেহটি কলের জলে ধুয়ে পরিষ্কার করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, মৃতদেহটি খাবার উদ্দেশ্য ছিল। ধীমান বলেন, ‘এই ঘটনায় ক্যানিবালিজমের বৈশিষ্ট্য পাওয়া গিয়েছে। খুবই বিরল একটি অপরাধ। তদন্ত চলছে। তাকে ৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সব সময়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকে। অসংলগ্ন কিছু কথাবার্তাও বলছে। তবে সে যে মানসিক ভারসাম্যহীন এমন কোনও তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
সাহেবগঞ্জ এবং পুন্ডিবাড়ি থানা সূত্রে খবর, রবিবার দুপুরে পুন্ডিবাড়ি থানা এলাকার চকচকায় একটি রিহ্যাব সেন্টার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। শনিবার ওই ঘটনার পরে রাতেই তাকে রিহ্যাবে পাঠিয়ে দেয় পরিবারের লোকজন। তবে ওই রিহ্যাব সেন্টারে খুনের বিষয়টি জানানো হয়নি বলে খবর। বাড়িতে ঝামেলা করেছে ,এই কথা বলেই তাকে পাঠানো হয়েছিল। এর আগেও সংশ্লিষ্ট রিহ্যাব সেন্টারে ওই ব্যক্তি ছিল বলে জানা গিয়েছে। এর আগেও স্থানীয় এক মহিলার সঙ্গে মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে সে যাত্রায় থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।