মানুষের মাংস খাওয়ার জন্য খুনের অভিযোগ, কোচবিহারে গ্রেফতার নরখাদক?
আজ তক | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি কোচবিহারের দিনহাটার কুর্শাহাট এলাকার। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়ার পর জেরার মুখে সে স্বীকার করে নিয়েছে, মাংস খাওয়ার জন্যই খুন করেছিল। এদিকে এই ঘটনা সামনে আসার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তিনি ওই এলাকায় অবস্থিত একটি শ্মশানের কাছেই কুঁড়েঘরে থাকতেন। কুর্শাহাটের একটি জলাশয়ে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। দেহ উদ্ধারের পর দেখা যায়, ঘাড় ও গলায় কাটা।
মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ফিরদৌস আলম নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। সূত্রের খবর, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল ফিরদৌস। সে অজ্ঞাতপরিতয় ব্যক্তিকে প্রথমে খুন করে তারপর দেহটি জলের কাছে নিয়ে যায়। তারপর দেহ পরিষ্কার করে তা লুকিয়ে রাখে। পুলিশের জেরার মুখে অভিযুক্ত মেনে নেয়, সে খুন করেছে। দেহের কিছু অংশ খেতেও চেয়েছিল।
দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র জানান, এই ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল এবং গুরুতর। অভিযুক্ত মানুষের মাংস খাওয়ার জন্য খুন করে। নরমাংস ভক্ষণের মতো বিরল ঘটনা হিসেবে একে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এসডিপিও আরও জানিয়েছেন, স্থানীয় সূত্র থেকে পুলিশ অভিযুক্ত সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে। তারপরই গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।
এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০০৫-২০০৬ সালের নয়ডায় নিঠারি হত্যাকাণ্ড। ওই এলাকার মণিন্দর সিং ও তার পরিচারক সুরিন্দরের নাম জড়ায় একের পর এক শিশু, কিশোরী নিখোঁজ এবং পরে নর্দমার পাড় থেকে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায়। তবে পরে তারা বেকসুর খালাস পেয়ে যায়।