জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'তল্লাশি করতে আসেনি, চুরি করতে এসেছিল'। আইপ্যাক কাণ্ডে এবার বিস্ফোরক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, 'আমার ফোনে পেগাসাস ঢুকিয়েছিল, তারপরেও হেরেছিল। এবারও হারবে'।
বদলেছে দিন। শুধু মাঠে-ময়দানে নয়, রাজনীতির লড়াই এখন মোবাইল স্ক্রিনেও। ডিজিটাল দুনিয়ায় কীভাবে প্রচার করতে হবে, দলের কর্মীদের বুঝিয়ে দিলেন অভিষেক। কর্মসূচির পোশাকি নাম ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’। এদিন ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’র কনক্লেভে অ্যাইপ্যাকের অফিসে ইডি-র হানা নিয়ে ফের সরব হন অভিষেক।
অভিষেকের সাফ কথা, 'এই অ্যাইপ্যাকের অফিসে রেড হল। আপত্তি দুটো জায়গায়। কয়লা তদন্তে শেষ তিন বছরে কোনও সমন জারি করা হয়নি কাউকে। হঠাত্ করে নির্বাচনের একমাসে আগে রেড! অ্যাইপ্যাকের তিনজন ডিরেক্টর। কোম্পানিতে রেড হলে, তিনজন ডিরেক্টরের উপরে রেড হবে। একজন দিল্লিতে কাজ করছে, একজন তামিলনাড়ুতে কাজ করছে, একজন বাংলায় কাজ করছে। খালি বাংলায় রেড হবে কেন? রেড করতে আসেনি, তথ্য নিতে এসেছে। চুরি করতে এসেছে'।
অভিষেকের আরও বক্তব্য. 'দল তো আমরা মা। দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক! যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করে গিয়েছে, তারা ধোয়া তুলসী পাতা? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিনিসটা কী, সিপিএমের থেকে ক্লাস নিয়ে আসুন, বিজেপি নেতাদের বলব। সিপিএমের বোমা-বন্দুকের কাছে মাথা নত করেনি। আপনি তো কোন ছাড়! আপনি ভাবছেন ইডি-সিবিআই পাঠিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দূর্বল করে দেবেন। এরা যে ভাষায় বোঝে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঠিক ভাষায় জবাব দিয়েছে'।
রাজ্য় বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সোজাসাপ্টা প্রতিক্রিয়া, 'ইডি সিবিআইয়ের তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা মানুষকে ক্লান্ত করেছে, বিরক্ত করেছে, হতাশ করেছে। কিন্তু এখনও মানুষ তাদের উপরে ভরসা রাখে। চোর-পুলিস খেলা অনেক হয়েছে, বন্ধ হোক। মানুষ বুঝে গিয়েছে, ইডি-সিবিআই নিয়ে আমরা কোনও আলোচনা করব না। আমাদে যেটা কাজ, সরকারটাকে সরিয়ে দেওয়া। সেটা করব'।
এদিকে অ্যাইপ্যাকে কাণ্ডে মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। শুনানি মুলতুবি হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের মামলা দায়ের করল ইডি। সোমবার দ্রুত শুনানি আর্জি জানিয়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
আবেদনে অভিযোগ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উচ্চপদস্থ পুলিস কর্মকর্তারা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সমর্থকরা তল্লাশির সময় হুমকি দিয়েছেন এবং ইডির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অপরাধমূলক নথি ও ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন। তল্লাশি পরিচালিত হয়েছিল দুটি জায়গায়- একটি প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং দ্বিতীয়টি ইন্ডিয়ান প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির অফিস প্রাঙ্গণে।
ইডি জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সমর্থকরা বিপুল জনসমাবেশ ও ভারী পুলিস মোতায়েন করে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত করেছেন। আদালত প্রাঙ্গণে হট্টগোল সৃষ্টির ফলে হাইকোর্টের শুনানি স্থগিত করতে হয়েছে। এছাড়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা প্রমাণ হিসেবে দেখায় যে, হট্টগোলের সঙ্গে সরাসরি রাজ্য সরকারের সমর্থিত দলীয় সদস্যরা জড়িত ছিলেন।