• কোভিডের থেকেও মারাত্মক নিপা ভাইরাস হানা দিয়েছে কলকাতায়! উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ২ নার্স...
    ২৪ ঘন্টা | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • অয়ন শর্মা: নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়াল রাজ্যে। সন্দেহভাজন ২ জন ভর্তি বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন দুজন। দুজনই পেশায় নার্স। ইতিমধ্যেই তাঁদের নমুনা পাঠানো হয়েছে কল্যাণীর এইমসে। আক্রান্ত দু’জনের বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। সোমবার সকালে রাজ্য সরকারের একটি প্রতিনিধি দল ওই হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। গোটা বিষয়টি কড়া নজরে রেখেছে স্বাস্থ্য দফতর।

    স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের প্রশ্ন ও উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। এগুলি হল ০৩৩-২৩৩৩-০১৮০ এবং ৯৮৭৪৭-০৮৮৫৮। ইতিমধ্যেই আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। সংক্রমণ যাতে আর না ছড়ায়, সে জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) কার্যকর করা হয়েছে।

    রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।  পরিস্থিতির উপর আমরা কড়া নজর রাখছি। সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ চলছে, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    এই ভাইরাস ছড়ায় বাদুড় থেকে। তাই বাদুড় যেগুলো খায় সেইগুলো না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।  মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী জানান, নিপা মোকাবিলায় নির্ধারিত SOP পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, বাদুড়ের দ্বারা দূষিত হতে পারে এমন ফল বা খাদ্যদ্রব্য খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ বাদুড় নিপা ভাইরাসের বাহক হিসেবে পরিচিত।

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত দুই নার্স ব্যক্তিগত কারণে পূর্ব বর্ধমানে গিয়েছিলেন। তবে রাজ্যের বাইরে কোথাও তাঁদের ভ্রমণের ইতিহাস নেই। বর্তমানে তাঁরা একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসচিব আরও জানিয়েছেন, নিপাহ ভাইরাস পরীক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্যের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো রয়েছে। নির্দিষ্ট নোডাল হাসপাতাল চিহ্নিত করা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া আছে। আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদেরও নিবিড় মেডিক্যাল পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    কল্যাণী এইমস সূত্রে খবর দুজনের নমুনা পাঠানো হয়েছে পুনে এনআইভি-তে। প্রেস কনফারেন্সে মুখ্য সচিব বলেন, বেসরকারি হাসপাতালকে সাহায্য করবে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। একটা ডিটেলস stategy তৈরি করা হয়েছে নতুন করে কেউ যেন আক্রান্ত না হয়। ওই দুজন এর সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদের বাড়িতে আইসোলেশনে রাখতে হবে।

    উপসর্গ

    এই ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে রোগীর মাথা ব্যথা, জ্বর, পেশীতে ব্যথা, ঝিমুনি হতে পারে। ধীরে ধীরে রোগীর এনসেফেলাইটিস হতে পারে।   

    চিকিত্সতা

    নিপা ভাইরাসের কোনও টিকা নেই। ফলে এই ভাইরাসে যে চিকিত্সা হয় তার সিম্পটমেটিক । এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে গেলে শূকর ও ফ্রুট ব্যাট থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। খাদ্য খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করে খেতে হবে। হাত ভালো করে ধুতে হবে। 

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)