নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতীয় নৌবাহিনীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। ৭২ হাজার কোটি টাকার সাবমেরিন চুক্তি হচ্ছে জার্মানির সঙ্গে। ভারতের পুরানো সাবমেরিন বাহিনী বাতিল করা হবে। অত্যাধুনিক সাবমেরিন কেনা হবে, এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে স্পেনের নাভানতিয়া সংস্থার অফার ছিল ভারতের কাছে। এস ৮০ প্লাস নামক ওই সাবমেরিনের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখার মধ্যেই জার্মানির পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ চ্যান্সেলর হওয়ার পর প্রথম সফরের জন্য ভারতকে বাছাই করেছেন। সোমবার তিনি ভারত সফর শুরু করেছেন। শুরুতেই যে সুখবর দিয়েছেন সেটি হল, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই মাসেই হতে চলেছে বাণিজ্য চুক্তি।
একইসঙ্গে ভারত ও জার্মানির সামরিক চুক্তি হবে। চ্যান্সেলর এর বেশি কিছু না বললেও জানা যাচ্ছে, জার্মান প্রযুক্তির টাইপ ২১৪ সাবমেরিন ক্রয় করার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়েছে। এই সবমেরিনের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল সপ্তাহের পর সপ্তাহ সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত থাকলেও সামান্যতম চিহ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এআইপি প্রযুক্তির অন্যতম বিশেষ গুণ হল নৈঃশব্দ। জলে সামান্যতম আলোড়ন হবে না। আবার জলের কিছুটা উপরিভাগে বিচরণ করলেও শব্দ হবে না। এরকম ৬টি সাবমেরিন কেনা হবে প্রাথমিকভাবে। ভারতের পক্ষ থেকে প্রধান শর্ত দেওয়া হয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তরের। অর্থাৎ নির্মাণ, সংস্কার, মেরামতি, রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের সংস্থা যুক্ত হতে পারবে জার্মান সংস্থার সঙ্গে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সেভেনটি ফাইভ আই নামক প্রকল্পে স্থির হয়েছে, পুরনো ধাঁচের সাবমেরিন ক্রমেই বদলে ফেলা হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শঙ্কা হল, অপারেশন সিন্দুর স্থগিত থাকলেও যে কোনও সময় সেটি আবার শুরু করতে হতে পারে। কারণ পাকিস্তানকে বিশ্বাস নেই। ১৯৭১ সালের যুদ্ধকেই মাপকাঠি ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রক মন্ত্রক স্থির করেছে নৌবাহিনীকে অত্যাধুনিক সামরিক উপকরণ প্রদান করে আরব সাগরের দখল সম্পূর্ণ নিজের হাতে রাখতে হবে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের শুরুতেই ভারতের নৌবাহিনী সবথেকে বড় আঘাত করেছিল করাচি বন্দরে। আর সেটাই ছিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে পঙ্গু করে দেওয়ার প্রধান পর্ব। পরবর্তী কাজগুলি করেছে বায়ুসেনা ও আর্মি। সেই কারণেই আবার নৌবাহিনীকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো শক্তিশালী করা হচ্ছে। ৭২ হাজার কোটি টাকার নৌবাহিনীর চুক্তি একসঙ্গে এই প্রথম।