নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ, রাষ্ট্রপতিরও এই সুরক্ষা নেই, দাবি পিটিশনে, নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি: মোদি সরকারের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন আইনি রক্ষাকবচের বিরোধিতা করে পিটিশনে বলা হয়েছে, দেশের রাষ্ট্রপতিরও এই সুরক্ষা নেই। সোমবার সেই মামলায় কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করল দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পাশ হয়। সেই আইনেই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয় দেশের প্রধান বিচারপতিকে। পরিবর্তে যুক্ত হন একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী। আইনে এও বলা হয়েছে ‘নির্বাচন কমিশনাররা অবসর নেওয়ার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা করা যাবে না।’ তা নিয়েই মামলা দায়ের করেছিল ‘লোকপ্রহরী’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মামলার শুনানিতে আইনজীবী উল্লেখ করেন, দেশের রাষ্ট্রপতিও এই ধরনের রক্ষাকবচ পান না। সংসদে এই বিষয়ে বিতর্ক চলাকালীন এক মন্ত্রী বলেছিলেন এই আইন কেবলমাত্র নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যকলাপের জন্য। কিন্তু ফৌজদারি মামলা তো এর মধ্যে পড়ে না। ফলে তা থেকে রক্ষাকবচ দেওয়া যেতে পারে না। এই আইনকে ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোটের পক্ষে অন্তরায়’ বলে দাবি করে আদালতের কাছে স্থগিতাদেশের আর্জি জানান তিনি।
যদিও আবেদনকারীর দাবি মেনে আইনের উপর স্থগিতাদেশ দেয়নি শীর্ষ আদালত। দেশের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেছে, ‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই আইন কোনও ক্ষতির কারণ হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি সংবিধান এই ধরনের রক্ষাকবচের অনুমতি দেয় কিনা, সেবিষয়টিও দেখা হবে।’ বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের মতামত জানতে চেয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।