মমতাকে ‘রুখতে’ সুপ্রিম কোর্টে ইডির মামলা, পার্টি করা হল ডিজি-সিপিকে
বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একটি নয়। দু’টি। কলকাতা হাইকোর্ট দ্রুত শুনানি না হওয়ায় আইপ্যাক ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘রুখতে’ সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের করল ইডি। শুধু তৃণমূল সুপ্রিমোর নামে নয়, দু’টি মামলাতেই রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) মনোজকুমার ভার্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হল। যেহেতু আইপ্যাকের অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে ইডি, তাই আবেদনে এই কেন্দ্রীয় এজেন্সিকেও যুক্ত করেছে ইডি। যদিও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইডির পক্ষে আইনজীবী মুকেশ কুমার মারোরিয়ার দায়ের করা সুপ্রিম কোর্টের দুই আবেদনেই ত্রুটি (ডিফেক্ট) খুঁজে পেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাই আবেদনের অংশ শুধরে নিতে ৯০ দিন সময় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ফলে আইপ্যাক মামলাটি ক্রমশ ‘আকর্ষণীয়’ হয়ে উঠছে। কলকাতা হাইকোর্টের মামলাটি আগামী ১৪ জানুয়ারি শুনানির জন্য ধার্য রয়েছে। তারই মধ্যে দ্রুত শুনানির জন্য ‘হাঁপিয়ে ওঠা’ ইডি দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও মামলা দায়ের করেছে।
প্রথম মামলায় ইডি এবং রবীন বনশল নামে এক অফিসার মমতা সহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অন্য মামলাটি করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম আহলওয়াত এবং প্রশান্ত চাণ্ডিলা। ফলে কোন আদালতের মামলার আগে শুনানি হয়, সেটাই দেখার। আইনজীবী মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের আগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা উঠলে রাজ্য সরকার তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীদের হাতে অস্ত্র এসে যাবে। তাঁরা বলতে পারবেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে, তাহলে কেন হাইকোর্টে শুনানি? ফলে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আদতে ইডি কিছুটা বেকায়দায় পড়ল বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত। পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা কিন্তু এদিনই জানিয়েছেন, ‘দু’টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারই ভিত্তিতে তদন্ত হচ্ছে। উপরন্তু মামলা যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে বিশেষ কিছু বলা উচিত হবে না। পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে। আমরা আইনত যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা নিচ্ছি।’ এছাড়া লাউডন স্ট্রিটের আবাসনের বাসিন্দাদের, বিশেষত প্রতীকের ফ্ল্যাটের ফ্লোরে যাঁরা থাকেন, তাঁদের বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড হয়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রতীকের বয়ানও নেওয়া হবে।
কয়লা পাচার কাণ্ডে গত বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্তা প্রতীকের বাড়ি এবং সংস্থার দপ্তরে তল্লাশি চালায় ইডি। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাদের অভিযোগ, এই টাকার একাংশ হাওলা মারফত আইপ্যাকের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। সেই মামলার সূত্রেই প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি। কিন্তু তাতে রাজ্য পুলিসের সহায়তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধা দিয়েছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিস যে এফআইআর করেছে, তা খারিজ করার প্রার্থনা করেছে ইডি।