ব্যর্থ পিএসএলভি অভিযান, মহাকাশে হারাল ‘অণ্বেষা’ সহ মোট ১৬টি স্যাটেলাইট
বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
বেঙ্গালুরু: বছরের শুরুতেই ধাক্কা খেল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। নতুন বছরের প্রথম অভিযানটিই ব্যর্থ হয়েছে। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, তাদের নির্ভরযোগ্য ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে পরিচিত পিএসএলভি রকেটের সাম্প্রতিক অভিযান সফলতা পায়নি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি এই রকেট। ফলে কক্ষপথে পৌঁছানোর আগে মহাকাশে হারিয়ে গিয়েছে মোট ১৬টি উপগ্রহ।
অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে নির্ধারিত সময় সকাল ১০:১৮ নাগাদ উৎক্ষেপণ করা হয় পিএসএলভি-সি৬২ রকেট। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তৃতীয় ধাপে আচমকা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় রকেটে। ইসরোর প্রাথমিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইঞ্জিনে চাপজনিত সমস্যার কারণে রকেটটি তার নির্ধারিত পথ থেকে সরে যায়। ফলে এর মধ্যে থাকা উপগ্রহগুলিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা সম্ভব য়নি।
এই মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ডিআরডিও-র তৈরি অণ্বেষা (ইওএস-এন১) উপগ্রহটির সফল প্রতিস্থাপন। যার মাধ্যমে সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের কাজ আরও সহজ হত। রকেটে ‘কো-প্যাসেঞ্জার’ হিসেবে ছিল আরও ১৫টি উপগ্রহ। যার অধিকাংশই তৈরি হয়েছিল ভারতের বিভিন্ন স্টার্টআপ সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই উপগ্রহগুলোর মাধ্যমে আরও ভালোভাবে পৃথিবীর ছবি তোলা যেত, দাবি বিশেষজ্ঞদের। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক ডেটা প্রসেসিং, শিক্ষামূলক গবেষণা, এমনকি মহাকাশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক প্রকল্পের প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়তা করত স্যাটেলাইটগুলি। থাইল্যান্ড ও ব্রাজিলের তৈরি কয়েকটি পে-লোডও ছিল এর মধ্যে। ইসরো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করবে। আগামী কোনও অভিযানে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি চায় না ইসরো। কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধাক্কা সাময়িক। ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও সক্ষমতার উপর এর প্রভাব পড়বে না। আগামী মিশনগুলিতে অতিরিক্ত সতর্কতা ও প্রযুক্তিগত উন্নতির মাধ্যমে এই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া হবে। ছবি: পিটিআই