• জলপাইগুড়ি শহরে দাপাল দলছুট হাতি
    বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সকালে করলাভ্যালি চা বাগানে। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত জলপাইগুড়ি শহরে ঢুকে দাপাল হাতি। সোমবার লোকালয়ে ঢুকে পড়া দলছুট হাতি তাড়াতে হিমশিম খেতে হল বনকর্মীদের। আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়। এদিন সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন ১ নম্বর সুভাষনগর কলোনি এলাকায় দু’টি ঘর ভেঙে দেয় হাতি। ঘর চাপা পড়ে জখম হন প্রমীলা ওরাওঁ নামে এক বধূ। তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সুভাষনগর কলোনিতে তাণ্ডব চালিয়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ডিভাইডারের রেলিং ভেঙে রাস্তা পেরিয়ে হাতিটি কার্যত জলপাইগুড়ি শহরে ঢুকে পড়ে। পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পিঙ্কু বিশ্বাসের দাবি, আমার ওয়ার্ডে পবিত্রনগর কলোনির একাধিক এলাকায় এদিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ হাতিটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন অনেকে। পটকা ফাটিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা হলে দলছুট ওই হাতি জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজের গার্লস হস্টেলের কাছাকাছি চলে আসে। সেখান থেকে ফের তাকে তাড়িয়ে শহরের বাইরে বের করার চেষ্টা হয়। 

    বনদপ্তরের জলপাইগুড়ি, বেলাকোবা ও রামশাই এলিফ্যান্ট স্কোয়াডের কর্মীরা রাত পর্যন্ত হাতিটি তাড়িয়ে শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। সঙ্গে ছিল পুলিশ। জলপাইগুড়ি শহরে হাতি ঢুকে পড়ার খবরে ব্যাপক আলোড়ন ছড়ায়। হাতি দেখতে ভিড় জমে যায়। বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিং করে বনদপ্তর। রাত পর্যন্ত অবশ্য হাতির হামলায় শহরে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। রাতে বৈকুণ্ঠপুরের এডিএফও দীপেন তামাং বলেন, জাতীয় সড়ক পার করে একটি হাতি জলপাইগুড়ি শহরের দিকে ঢুকে পড়ে। আমরা সেটিকে ফেরত পাঠানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছি। 

    এদিন সকালে জলপাইগুড়ি শহরের কাছে করলাভ্যালি চা বাগানে ঢুকে পরিত্যক্ত কুয়োয় পড়ে যায় একটি হাতি। দীর্ঘ চেষ্টার পরও  সেই কুয়ো থেকে উঠতে না পারায় জেসিবির সাহায্যে উদ্ধার করা হয় সাব অ্যাডাল্ট ওই হাতিটিকে। চা বাগানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় আরও দু’টি হাতিকে। বৈকুণ্ঠপুরের বোদাগঞ্জ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে তিনটি হাতি করলাভ্যালি চা বাগানে ঢুকে পড়ে বলে মনে করছেন বনদপ্তরের কর্মীরা। সন্ধ্যায় শহরে ঢুকে পড়া হাতিটি, ওই দলেরই একটি বলে বনদপ্তর সূত্রে খবর। 
  • Link to this news (বর্তমান)