• শুক্রবার মাটিগাড়ায় সর্ববৃহৎ মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস
    বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আর মাত্র তিনদিন অপেক্ষা। আগামী শুক্রবার মাটিগাড়ায় শিলান্যাস হতে চলেছে দেশের সর্ববৃহত্তম মহাকাল মন্দিরের। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মন্দিরের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য অর্থ উপদেষ্টা হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের পর একথা জানান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। সেই সঙ্গে তিনি জানান, সর্ববৃহৎ এই মন্দিরের শিলান্যাস কর্মসূচিতে ঢল নামবে আমজনতার। এজন্য পুলিশ ও প্রশাসন জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

    শিলিগুড়ি শহরের পাশে উজানু মৌজায় হবে মহাকাল মন্দির। সংশ্লিষ্ট এলাকা মাটিগাড়া ব্লকের পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। জমিটির গা ঘেঁষে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, রেল লাইন ও চামটা নদী। ইতিমধ্যে মন্দির নির্মাণের জন্য জমি সংস্কার করা হচ্ছে। সেখানেই ১৬ জানুয়ারি মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠান হবে। এজন্য মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। লোহার কাঠামোয় তৈরি করা হচ্ছে মঞ্চ। মাটিতে পাতা হবে প্লাইবোর্ড। 

    এদিন সেই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য অর্থ উপদেষ্টা। বৈঠকে শিলিগুড়ির মেয়র ছাড়াও মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ, এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান দিলীপ দুগ্গার, তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা চেয়ারম্যান (সমতল) সঞ্জয় টিবরেওয়াল, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্র প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পর মেয়র বলেন, সর্ববৃহৎ এই মন্দিরের নির্মাণ কাজ করবে ওয়েস্টবেঙ্গল হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন। রাজ্য সরকারের নির্দেশে তারা মন্দিরের জন্য চিহ্নিত জমির জঙ্গল সাফাই করেছে। মাটি ফেলে কিছু জায়গা উঁচু করেছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছি। কয়েকদিন আগে মুখ্যসচিব এনিয়ে বৈঠক করেন। এদিন হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী বৈঠক করলেন। সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রীই প্রকল্পটির শিলান্যাস করবেন। 

    তিনমাস আগে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত দার্জিলিং পাহাড়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই সময় তিনি পাহাড়ের পুনর্গঠন কাজের নেতৃত্ব ও পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর মহাকাল মন্দির পরিদর্শন করেন। তখনই তিনি শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির তৈরির কথা ঘোষণা করেন। মন্ত্রিসভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের পর একটি ট্রাস্ট বোর্ড গঠন করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসন সূত্রে খবর, উজানু মৌজায় চিহ্নিত ওই জমির আয়তন ১৭ একর। সেটি এসজেডিএ’র। ইতিমধ্যে তারা জমিটি রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে। 

    মেয়র বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং, কালিম্পং পাহাড়ের পাশাপাশি কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুর থেকে জনপ্রতিনিধি সহ সাধারণ মানুষ আসবে। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুমতো পরিচালনা করতে পুলিশ ও প্রশাসন একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে। 

    দীঘার জগন্নাথ মন্দির পর্যটন শিল্পে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মহাকাল মন্দিরও উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের নয়া মাইলস্টোন হবে বলেই মেয়রের দাবি। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্দিরে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও হবে। সর্ববৃহৎ এই মন্দির শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতির ভোল বদলে দেবে। • মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)