এবার পৌষপার্বণের আগে রায়গঞ্জে নারকেল, নলেন গুড়ের দাম চড়া
বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: পাটিসাপটা হোক কিংবা রকমারি পিঠে, পুলি। আগামীকাল, বুধবার মকর সংক্রান্তিতে নারকেল ছাড়া পিঠে-পার্বণ কার্যত অপূর্ণ। সেই নারকেলের দামই সোমবার থেকে ঊর্ধ্বমুখী। রায়গঞ্জের বাজারগুলিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিকোচ্ছে একপিস নারকেল। এতেই চক্ষু চড়কগাছ ক্রেতাদের।
পৌষপার্বণ বা মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে এদিন সকাল থেকেই রায়গঞ্জের বাজার-হাট ছিল জমজমাট। বিশেষ করে সাদা তিলের খাজা, কালো তিলের কদমা, সাদা কদমা, সাদা বাতাসা কিনতে দোকানগুলিতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মোহনবাটি, দেবীনগর, কলেজপাড়া, বন্দর, স্টেশন বাজার চত্বরে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। তার মধ্যে নজর কেড়েছে নারকেলের দাম। মোহনবাটি বাজারের নারকেল বিক্রেতা কৃষ্ণগোপাল সাহা জানান, নানা কারণে মকর সংক্রান্তির আগে এবার নারকেলের দাম একটু চড়া। প্রথমত বাজারে যত নারকেলের পসরা বসেছে, সবই কেরল থেকে আনা। এই সময় এখানকার নারকেল বাজারে নেই বললেই চলে। সাধারণ দিনে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা প্রতি পিস নারকেল বিক্রি হলেও এদিন একটি প্রমাণ সাইজের কেরলের নারকেল ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
কৃষ্ণগোপাল বলেন, আমাদের কেনা দামও বেশি। তারওপর আবার কেরল থেকে আনার জন্য দামটা একটু বেশি। তবে ছোট আকারের নারকেল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পিঠে পার্বণের দিন অতিবাহিত হলেই দাম কিছুটা কমে যাবে।
এদিন শুধু নারকেল নয়, দাম চড়া ছিল মকর সংক্রান্তির উপকরণ হিসেবে রকমারি খাজা, কদমা, নলেন গুড় এবং আতপ চালের গুঁড়োরও। মোহনবাটি বাজারের প্রণয় দে বলেন, সাদা তিলের খাজা প্রতি ১০০ গ্রাম বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। কালো তিলের কদমা প্রতি ১০০ গ্রাম বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায়। এছাড়াও নলেন গুড়ের পাটালি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকায়। আবার প্রতি কেজি ২০০ টাকাতেও পাটালি বিক্রি হয়েছে। তার স্বাদ-গন্ধ তুলনামূলকভাবে একটু কম বলে দাবি দোকানদারদের। একই দাম ছিল ঝোলা গুড়েরও। আবার পিঠে তৈরির আরও একটি অন্যতম উপাদান আতপ চালের গুঁড়ো বিকিয়েছে প্রতি কেজি ৬০ টাকায়। ক্রেতাদের কয়েকজন বলেন, এমনিতেই যত দিন যাচ্ছে, বাড়িতে পিঠেপুলি তৈরির উৎসাহ কমছে। এই অবস্থায় পিঠে তৈরির সামগ্রীর দাম চড়া হওয়ায় কিছুটা হলেও পকেটে টান পড়ছে। নিজস্ব চিত্র