• চা শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ইস্যুতে জলপাইগুড়ি পিএফ অফিসে বিক্ষোভ
    বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পিএফ অফিসের ‘দালাল’দের সঙ্গে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি এমপি মনোজ টিগ্গার গোপন আঁতাত রয়েছে। সোমবার জলপাইগুড়িতে চা শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ইস্যুতে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এমনই অভিযোগ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বড়াইক। তাঁর দাবি, পিএফ অফিসের দালাল মারফত মনোজ টিগ্গার সঙ্গে লেনদেন চলে। আমাদের কাছে তথ্যপ্রমাণ আছে। তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি প্রকাশচিকের অভিযোগ, বিজেপির বিধায়ক, সাংসদের দেওয়া শংসাপত্র দাখিল করে জীবিত চা শ্রমিককে ‘মৃত’ দেখিয়ে তাঁর পিএফের টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগও পেয়েছি আমরা। 

    যদিও প্রকাশচিকের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দাগতে ছাড়েননি আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে লেনদেনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার প্রমাণ দিতে হবে। না হলে আমি আইনি নোটিস ধরাব। তাঁর দাবি, যদি পরিবারের কেউ কোনও চা শ্রমিকের ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে এসে বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের কাছে শংসাপত্র চান, তাহলে তো সেই জনপ্রতিনিধি ডেথ সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে তাঁকে শংসাপত্র দেবেন। সেক্ষেত্রে ওই ডেথ সার্টিফিকেট আসল না ভুয়ো, সেটা বিজেপি জনপ্রতিনিধি কীভাবে প্রমাণ করবেন? মনোজের বক্তব্য, ডেথ সার্টিফিকেট তো রাজ্য সরকারের অফিস থেকে ইস্যু করা হয়, ফলে তা যদি ভুয়ো হয়, সেই দায় তো রাজ্যের। 

    জলপাইগুড়ির আঞ্চলিক পিএফ কমিশনার পবন বনসল অবশ্য দালাল ও লেনদেন ইস্যুতে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা কী অভিযোগ করছেন তা নিয়ে কিছু বলব না। তবে এটা বলব, কোন চা বাগানে কত টাকা পিএফ বকেয়া, সেটা যে কেউ চাইলেই ওয়েবসাইট থেকে দেখতে পারবেন। ফলে সবটা সবার সামনে আছে। আর যেসব বাগান পিএফ জমা দিচ্ছে না, আমরা আইন মেনে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করছি।

    এদিকে, পিএফ অফিসের একাংশের কর্মীর সঙ্গে কিছু চা বাগান মালিক এবং বিজেপি নেতাদের গোপন আঁতাত রয়েছে বলে এদিন অভিযোগ করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইএনটিটিইউসি’র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। চা শ্রমিকদের বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের তথ্য প্রকাশের দাবিতে এদিন জলপাইগুড়িতে আঞ্চলিক পিএফ কমিশনারের অফিসের সামনে বিক্ষোভ সভা করে তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়ন। ওই সভায় ঋতব্রত দাবি করেন, বারবার বলার পরেও চা শ্রমিকদের বকেয়া পিএফ নিয়ে তথ্য প্রকাশ করছে না প্রভিডেন্ট ফান্ড অফিস। আমাদের দাবি, কোন চা বাগানে কত টাকা পিএফ বকেয়া, তার লিস্ট প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষের অফিসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাগানে টাঙিয়ে দিতে হবে। 

    কেন্দ্রের ভারী শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা পরিচালিত জলপাইগুড়ি জেলার চারটি চা বাগানে প্রায় একশো কোটি টাকা পিএফ বকেয়া বলে এদিন অভিযোগ করেন ঋতব্রত। তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বের দাবি, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলা মিলিয়ে প্রায় ৪০টি চা বাগান মালিক ঠিকমতো পিএফ জমা দিচ্ছেন না বলে তাদের কাছে খবর। বকেয়া পিএফের পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকা।  
  • Link to this news (বর্তমান)