সংবাদদাতা, রামপুরহাট : রামপুরহাট-দুমকা রোডে বড়সড় ডাকাতির ছক বানচাল করল পুলিশ। সাতজনের একটি ডাকাত দলকে গ্রেপ্তার করে বড় সাফল্য পেল রামপুরহাট থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে দুমকা রোডের কালিডাঙা গ্রামের কাছ থেকে তাদের পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের থেকে চাকু, ভোজালি, সাইকেলের চেন, নাইলনের দড়ি ও লাঠি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ডাকাতির উদ্দেশেই দুষ্কৃতীরা জড়ো হয়েছিল। ধৃতদের সোমবার রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে বিচারক ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, রামপুরহাট-দুমকা রোডে নিয়মিত টহল চলে। আরও নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর আসে রামপুরহাট দুমকা রোডে চলমান যানবাহনে ডাকাতির প্রস্ততি নিয়ে কয়েকজন জড়ো হয়েছে। সেই খবরের ভিত্তিতে রবিবার গভীর রাতে কালিডাঙা মোডের কাছে অভিযানে চালায় পুলিশের একটি দল। যদিও পুলিশ দেখে রাস্তা থেকে সটান নেমে মাঠ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশ পিছু ধাওয়া করে ডাকাত দলের সাত সদস্যকেই ধরে ফেলে। বাকি আরও কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা আলাউদ্দিন শেখ ওরফে পিন্টু, শেখ নিয়াজ ওরফে ইউসুফ, রণি শেখ ওরফে রহিত, ইয়ারুল শেখ, মোস্তফা শেষ ওরফে গালু, মহম্মদ ইমরান ওরফে রাজু ও কলিম শেখ। ধৃতদের বাড়ি রামপুরহাট থানার চন্দনকোণ্ঠা, বগটুই ও চামড়াগোদাম এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এক জায়গায় জড়ো হয়েছিল। তল্লাশিতে তাদের থেকে ধারালো অস্ত্র সহ ডাকাতির সব সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে মুলুটি থেকে পুজো দিয়ে গভীর রাতে রামপুরহাটে ফেরার পথে চারচাকা গাড়ি আটকে দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতীরা অস্ত্র উঁচিয়ে গাড়ির কাচ ভেঙে যাত্রী ও চালকের থেকে নগদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা ও সোনার আংটি ছিনিয়ে নিয়েছিল। মারধর করা হয় চালক সহ যাত্রীদের। এসব ক্ষেত্রে মূলত ঘটনাস্থল কোন থানার অধীনে তা নিয়ে রামপুরহাট ও ঝাড়খণ্ড পুলিশের মধ্যে চাপানউতোর চলে। এরপর রামপুরহাট-দুমকা রোডের ঝাড়খণ্ড সীমানায় রাতের অন্ধকারে রাস্তায় গাছের ডাল ফেলে মিনি বাস ও কয়েকটি চারচাকা গাড়ি আটকে ছিনতাই চালায় দুষ্কৃতীরা। গয়না সহ লক্ষাধিক টাকা লুটের অনেকগুলি ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঠিক তার কয়েকদিন বাদে রামপুরহাটের কুসুম্বা- বলরামপুর রোডে গাছের ডাল ফেলে একই কায়দায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে প্রসূতির পরিবারের থেকে সব কিছু কেড়ে নিয়েছিল দুষ্কৃতীরা।
রামপুরহাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা রামপুরহাট-দুমকা রোডে যানবাহন আটকে ডাকাতির পরিকল্পনা নিয়ে জড়ো হয়েছিল। তবে এর আগের ডাকাতির ঘটনাগুলিতে ওই দলটাই যুক্ত কি না, তা জানার পাশাপাশি বাকি সদস্যদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ধৃতদের নামে আগে থেকেই ছোটখাটো চুরি, ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই দুষ্কৃতীরাই এলাকার কিছু সমাজবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে বড়সড় একটি গ্যাং তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ড থেকে বীরভূমে আসা ও যাওয়ার রাস্তাগুলিতে বিশেষ করে রাতের দিকে নজরদারি বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে পুলিশ।