• দিলীপের ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার জেরেই কি চন্দ্রকোণা রোড কাণ্ড?
    বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: দিলীপ ঘোষের ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার জেরেই কি তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর চন্দ্রকোণা রোড কাণ্ড? দাদার অনুগামীদের হুজ্জুতির পর এই প্রশ্ন এখন দলের অন্দরেই ঘোরাফেরা করছে। বড় নেতারা মুখ না খুললেও এনিয়ে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় সরব হতে শুরু করেছেন নিচুতলার নেতা-কর্মীরা। অনেকেই বলছেন, যতদিন দিলীপ ঘোষকে দল নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল, ততদিন কোনও সমস্যা হয়নি। গোল বেঁধেছে দলেরই নির্দেশে ফের তাঁর সক্রিয় হয়ে ওঠায়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় একের পর এক দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি। আর তাতেই ঘুম উড়েছে দাদার অনুগামীদের। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দিলীপের সক্রিয়তায় তাঁরা কার্যত অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যান। সেই হতাশা থেকেই চন্দ্রকোণা রোডের ঘটনা বলে অনেকেই মনে করছেন। জানা গিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার চন্দ্রকোণা রোড এলাকায় বিজেপির বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালিত হবে। জেলার প্রথম সারির নেতারা এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন।

    জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, চন্দ্রকোণা রোডে আমাদের দাদাকে আক্রমণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার তার প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নামবেন। তৃণমূল চাইছে, ভয়ের আবহ তৈরি করে ভোটে জয় পেতে। কিন্তু ওদের সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না। মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।

    একসময় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় দিলীপ ঘোষের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। রাজ্য সভাপতি থাকার সময় চন্দ্রকোণা রোডেও তাঁর দাপট ছিল। তাঁর বহু অনুগামীও রয়েছে এই এলাকায়। কিন্তু ২০২১সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তাঁর প্রভাব কমতে শুরু করে। এরপর সভাপতির পদও খোয়াতে হয়। দলে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন। একসময় এই জেলায় তিনি রোজ কোনও না কোনও কর্মসূচিতে হাজির থাকতেন। ধীরে ধীরে তাও কমতে থাকে। গত লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে খড়্গপুর থেকে সরিয়ে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে টিকিট দেওয়া হয়। নির্বাচনে হারের পর তাঁর গতিবিধি আরও কমে যায়। গতবছর দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে সস্ত্রীক হাজির থাকায় দিলীপবাবুর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিষনজরে পড়েন। দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে। এমনকী, একসময় তিনি তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন বলেও গুঞ্জন শোনা যায়। দলীয় রাজনীতির এই আবহে দাদার অনুগামীদের দাপট বেড়ে যায়। জেলায় তাঁরই কার্যত শেষ কথা হয়ে দাঁড়ান। খেলা ঘোরে সম্প্রতি অমিত শাহের বঙ্গ সফরের পর। দিলীপকে ফের সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। দিলীপবাবুও পরেরদিন থেকেই কার্যত কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েন। বছরের শুরুতেই জকপুর, দাঁতন, খড়্গপুর শহর সহ বিভিন্ন এলাকায় দিলীপবাবু একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেন। তাঁর অনুগামীরা আবার পায়ের তলায় মাটি পেয়ে যান। বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের কথায়, দিলীপবাবুর এই সক্রিয়তা দলের অনেকেই ভালো চোখে দেখছেন না। সামনেই ভোট। তাই অনেকেই আজানা আশঙ্কায় ভুগছেন। সেকারণে ভেসে থাকার জন্যই হয়তো শনিবার রাতে চন্দ্রকোণা রোডের ওই ঘটনা ঘটানো হয়। দাদার দেহরক্ষীরাই বেপরোয়া হয়ে মারধর করে। 

    এক তৃণমূল নেতার কথায়, ওইদিন রাতে চন্দ্রকোণা রোডে তৃণমূল-বিজেপি, দুই দলের নেতারাই স্লোগান তোলেন। দুই দলের নেতারাই বিক্ষোভ দেখানোয় কনভয় থেকে নেমে কেন্দ্রীয় বাহিনী মারধর করে। দুই দলের কর্মীই জখম হয়েছেন। অথচ থানায় ঢুকে ধর্নায় বসলেন দাদা। এমনকী সংবাদ মাধ্যমকে ঘটনাস্থলে আসা পর্যন্ত অপেক্ষাও করা হল। যাতে প্রচার পাওয়া যায়। এদিন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, বিজেপি মানেই নাটক। বিজেপি চায় শান্ত জেলাকে অশান্ত করতে। এর জবাব মানুষ দেবে।
  • Link to this news (বর্তমান)