• এখনও পর্যন্ত জেলায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন মাত্র সাড়ে তিনশো জন
    বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: তিরিশ হাজারে মাত্র সাড়ে তিনশো! ঢাকঢোল পিটিয়ে সিএএ (নাগরিকত্ব) শংসাপত্র দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও নদীয়া জেলায় প্রাপকের সংখ্যা নেহাৎই নগন্য। এখন পর্যন্ত আবেদনকারীর সংখ্যা তিরিশ হাজারের কাছাকাছি। শংসাপত্র পেয়েছেন মাত্র সাড়ে তিনশো জন। ফলে, এসআইআরের শুনানিতে ভোটাধিকার রক্ষায় সিএএ সার্টিফিকেটকে কমিশন মান্যতা দিলেও অধিকাংশ ভোটারই তা জমা দিতে পারছেন না। অথচ, তাঁরা সকলেই আবেদনকারী। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা, এসআইআরের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে কমিশন। এবার ভোট ঘোষণা। এর মধ্যে সিএএ সার্টিফিকেট না পেলে ভোটাধিকার হারাতে পারেন জেলার বহু সংখ্যক ভোটার। আর এই আশঙ্কা সত্যি হলে বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে বিজেপির সিএএ ক্যাম্প। সেই সঙ্গে আরও একবার প্রমাণ হয়ে যাবে, বাংলায় ভোট এলে সিএএ নামক একটি গাজর ঝুলিয়ে বাজিমাৎ করতে চায় গেরুয়া শিবির।   বর্তমানে ডাক বিভাগের পাঁচজন সুপারিনটেনডেন্ট সিএএ’তে আবেদনকারীদের প্রতিদিন শুনানি করছেন। কৃষ্ণনগর সুপারিনটেনডেন্ট অফিসের পাশাপাশি কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিসেও শুনানি পর্ব চলছে। মাসখানেক আগে শুনানির গতি বাড়াতেই আরও চারজন সুপারিনটেনডেন্টকে নিয়োগ করা হয়েছে। শুনানিতে এখন পর্যন্ত এসেছেন পাঁচ থেকে ছ’হাজার আবেদনকারী। মোদি সরকারের নির্ধারিত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা করছেন। সেগুলি যাচাইও করা হচ্ছে দ্রুততার সঙ্গে। কিন্তু সার্টিফিকেট আর মিলছে না। যদিও গোটা প্রক্রিয়া থেকে জেলা প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনকে অন্ধকারেই রাখা হয়েছে। যা নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ডাক বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, নদীয়া জেলায় এখনও পর্যন্ত ৩৫২ জন আবেদনকারী নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। 

    এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, অর্থাৎ আনম্যাপড ভোটারদের শুনানি হচ্ছে। কমিশন নির্ধারিত নথির মধ্যে নাগরিকদের জাতীয় রেজিস্ট্রার হিসেবে সিএএ শংসাপত্র নেওয়া হচ্ছে। নদীয়া জেলার বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তের বিধানসভা কৃষ্ণগঞ্জ, কৃষ্ণনগর উত্তর এবং রানাঘাট লোকসভার অন্তর্গত বেশ কিছু বিধানসভায় দেখা গিয়েছে, অনেক ভোটার সিএএ সার্টিফিকেট জমা করেছেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরে দেড় লক্ষ ভোটারের শুনানির পর ৮০ হাজার নথি আপলোড করা হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৩৫ হাজার ভোটার, যাদের কাছে কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে অন্তত দু’টি নথি নিজেদের বৈধতার প্রমাণ হিসেবে দেখাতে পারছেন। অর্থাৎ প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার ভোটার কমিশন নির্ধারিত নথি দেখাতে পারছেন না। সংখ্যাটা আগামীদিনে আরও বাড়তে পারে। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, ‘ভোট এলেই বিজেপি সিএএর গাজর ঝোলায় সীমান্তের মানুষকে। সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝায়। এসআইআরের মাধ্যমে মানুষকে যেমন হেনস্থা করা হচ্ছে, তেমনিই সিএএর মাধ্যমে বিজেপি সরকার চাইছে, মানুষ নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে ঘোষণা করুক। কিন্তু আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, ওঁরাও নাগরিক। আসলে এটাও বিজেপি সরকারের জুমলা। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করার কৌশল। সিএএকে সামনে রেখে মাস খানেক আগেই ব্যাপকভাবে জেলাজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় শিবিরের আয়োজন করেছিল বিজেপি। তখন গেরুয়া শিবিরের নেতারা দাবি করেছিলেন, ভোটাধিকার নাকি নিশ্চিত হবে সিএএর মাধ্যমেই। কিন্তু তার কতটা বাস্তব ভিত্তি রয়েছে, তা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠছিল। তাই নির্বাচনের আগেই এই সিএএ, ভোটাধিকার রক্ষায় আনম্যাপড ভোটারদেরকের কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। 

    কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘যারা সিএএতে আবেদন করছেন, তাঁরা সকলেই নাগরিকত্ব পাবেন। আমরা যেটা বলেছিলাম মোদি সরকার তার বাস্তবায়ন করে দেখাচ্ছে। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।’
  • Link to this news (বর্তমান)