• এসআইআর ফরমে সাঁটানো পুরনো ছবিও সন্দেহজনক! ডাক শুনানিতে
    বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সন্দেহের আর শেষ নেই! এবার এসআইআর ফরমে সাঁটানো ছবিও কমিশনের কাছে সন্দেহজনক। বিশেষ করে যাঁরা পুরনো বা সাদা কালো ছবি সাঁটিয়েছেন, তাঁদের ফের নতুন দুর্গতি। কমিশনের অফিসারদের সামনে দাঁড়িয়ে ক্যামেরায় ছবি তুলতে হবে। বিএলওদের এমন ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

    এসআইআর ফরম বাড়িতে আসর পর অনেকেই পুরনো ছবি বা সাদা-কালো ছবি দিয়েছিলেন। নতুন করে তোলার হয়তো সময় পাননি। তা ছাড়া খরচও অনেকটাই। সেই কার঩ণেই হাতের কাছে যা ছিল, সেই ছবিই সাঁটিয়েছিলেন। সেটা এখন পছন্দ করছেন না কমিশনের আধিকারিকরা। পছন্দের চেয়েও বড় কথা সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন। বিএলও সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা ছেলেখেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিজেপির টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে কমিশন রাজ্যের বাসিন্দাদের হয়রানি করছে। যে কোনও স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তুলতে হলে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ টাকা খরচ হয়। সেটা নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় বিষয় নয়। কিন্তু যারা মাঠে কাজ করেন তাঁদের কাছে এই টাকাটা অনেক বড় বিষয়। সেই কারণেই অনেকে বাড়িতে যে ছবি ছিল সেটাই দিয়েছিলেন।’

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ মঙ্গলবার থেকে সন্দেহজনক ভোটারদের শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হচ্ছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা ডাক পাচ্ছেন। এই পর্বে শুনানির জন্য অতিরিক্ত এইআরও এবং মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকেরই দাবি, শিক্ষক শিক্ষিকাদের বিএলও হিসেবে কাজে লাগানোয় বহু স্কুলে পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। এবার ব্যাঙ্ক গুলিতেও ডামাডোল তৈরি হবে। ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকদেরও এই কাজ দেওয়া হয়েছে। তারপরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুনানি পর্ব শেষ হবে কিনা, তা নিয়ে আধিকারিকরা ধন্দে। সামান্য ভুলের জন্যও বাসিন্দাদের শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হয়েছে। যেমন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কারও নাম ছিল চণ্ডীচরণ দাস। পরে তিনি চরণ বাদ দিয়ে শুধু চণ্ডী লেখেন। কিংবা আগে কেউ নামের সঙ্গে কুমার লিখতেন। এখন তা লেখেন না। তাঁদেরকেও শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হচ্ছে। পদবীর বানান একটু হেরফের হলে তিনিও কমিশনের কাছে সন্দেহজনক হয়ে উঠেছেন। 

    এসবের জন্যই সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা প্রতিটি জেলাতেই লাফিয়ে বাড়ছে। এধরণের সংশোধন গুলি বিএলও’দের দিয়েই করানো যেত বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। তাঁরা এধরণের ভুল সংশোধনের কাজ শুরুও করে দিয়েছিলেন। পরে কমিশন জানিয়ে দেয়, শুধু বিএলওদের দিয়ে এই কাজ করালে হবে না। নোটিশ দিয়ে ওইসব ভোটারদের ডাকতে হবে। প্রায় প্রতিদিনই নয়া ফরমান আসছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু বিএলও। এখন কমিশন ছবি দেখে  অবৈধ ভোটার খোঁজার চেষ্টা করছে। কে কে সাদা কালো ছবি দিয়েছে, তা তাঁরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।
  • Link to this news (বর্তমান)