হাইকোর্টের নির্দেশে ২১ জানুয়ারি চেয়ারম্যান পদ নিয়ে ভোটাভুটি
বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তমলুক পুরসভায় চেয়ারম্যান পদে ভোটাভুটির জন্য বোর্ড মিটিং ডাকছে পুরসভা। আজ, মঙ্গলবার পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের কাছে এনিয়ে নোটিস পাঠানো হবে। আগামী ২১জানুয়ারি পুরসভার বোর্ড মিটিং হবে। সেখানেই তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান পদে ভোটাভুটি হবে। তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল প্যানেলের বিপক্ষে প্রার্থী থাকেন কিনা তা নিয়ে শহরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর মনোনীত চঞ্চল খাঁড়া অস্থায়ী চেয়ারম্যান রয়েছেন। কিন্তু, এক মাসের বেশি কার্যভার চালাতে হলে বোর্ড অব কাউন্সিলার্সের মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে জয়ী হওয়াটা বাধ্যতামূলক। এনিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। ২২ডিসেম্বর সেই মামলায় হাইকোর্ট এক মাসের মধ্যে তমলুক পুরসভায় ভোটাভুটি করতে নির্দেশ দিয়েছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া বলেন, ১৩জানুয়ারি আমরা বোর্ড মিটিংয়ের জন্য চিঠি ইস্যু করছি। ২১জানুয়ারি ভোটাভুটির দিনক্ষণ ফাইনাল করা হচ্ছে। গত ৬নভেম্বর তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়কে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দেয় দল। ১১নভেম্বর তিনি ইস্তফা দেন। সেইসঙ্গে ভাইস চেয়ারপার্সন লীনা মাভৈও সরে দাঁড়ান। তারপর ১৮নভেম্বর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর চেয়ারম্যান পদে ইনচার্জ হিসেবে চঞ্চল খাঁড়াকে দায়িত্ব দেয়। মিউনিসিপ্যাল আইনে ১৭নম্বর ধারায় উল্লেখিত ৪নম্বর উপধারায় ওই নিয়োগ করে পুরদপ্তর। ওই ধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান দায়িত্বভার গ্রহণের ৩০দিনের মধ্যে বোর্ড মিটিং ডেকে নির্বাচিত হবেন। যদিও তমলুক পুরসভার ক্ষেত্রে এমনটা হয়নি। এনিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন বিজেপি কাউন্সিলার জয়া দাসনায়েক।
সেই মামলায় ২২ডিসেম্বর হাইকোর্ট পুর আইন মোতাবেক এক মাসের মধ্যে ভোটাভুটির নির্দেশ দেয়। ২২তারিখ ওই রায়ের পর পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে চঞ্চলবাবু আছেন। যদিও মামলাকারীদের দাবি, ১৮নভেম্বর থেকে ১৭ডিসেম্বর এক মাস সময় চলে গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তারপর চঞ্চল খাঁড়া চেয়ারম্যান থাকতে পারেন না। যদিও চঞ্চলবাবুর দাবি, আদালতের রায়কে শিরোধার্য করেই পুরসভা কর্তৃপক্ষ রায়দান থেকে এক মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২২জানুয়ারির মধ্যে ভোটাভুটি করবে। এই সময়কালে তাঁর চেয়ারম্যান থাকতে কোনও অসুবিধা নেই।
পুরসভার মোট ২০জন কাউন্সিলার। তারমধ্যে বিজেপির দু’জন আছেন। এছাড়াও ১০নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তৃণমূলের পার্থসারথি মাইতিকে সাসপেন্ড করেছে দল। এই অবস্থায় ২১জানুয়ারির ভোটাভুটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল প্যানেলের পাল্টা কেউ প্রার্থী হবেন কিনা তা নিয়ে শহরজুড়ে চর্চা চলছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই শহরে কাউন্সিলারদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট। দীপেন্দ্রনারায়ণবাবুকে ইস্তফা দেওয়ার মুহূর্তে তাঁর পাশে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেছিলেন। যদিও দলের নির্দেশ মেনেই চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাজ পরিবারের ওই সদস্য। হাইকোর্টের নির্দেশে আগামী ২২জানুয়ারির মধ্যে ভোটাভুটি নিশ্চিত করতে হবে। সেইমতো ২১জানুয়ারি ভোটাভুটির দিন চূড়ান্ত করেছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। ভোটাভুটির আগে অন্তত সাতদিনের ব্যবধানে মিটিংয়ের চিঠি দিতে হবে বলেও নির্দেশে বলা হয়েছে। সেইমতো ১৩জানুয়ারি ২০জন কাউন্সিলারের কাছে ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়ার চিঠি পাঠিয়ে দিচ্ছে পুরসভা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়, নাকি ভোটাভুটি হবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে।