লক্ষ্যে ভোট, নির্দেশ মেনে জেলার আইন-শৃঙ্খলার রিপোর্ট কমিশনে
বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। কমিশন কিন্তু প্রতি জেলার আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে নজরদারি শুরু করেছে। ঝাড়গ্রাম জেলার প্রতি সপ্তাহের আইন শৃঙ্খলার যাবতীয় রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পৌঁছে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাওবাদী পর্বে অশান্ত হয়ে ওঠা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক নজরদারি চলছে। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর বলেন, কমিশনের নির্দেশ মেনে আইনশৃঙ্খলার রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। নির্দেশিকা মেনে যাবতীয় তথ্য পাঠানোর কাজ চলছে। এক্ষেত্রে জেলা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
জঙ্গলমহলে মাওবাদী সন্ত্রাসের স্মৃতি এখনও টাটকা রয়েছে। কেন্দ্রের রিপোর্টে ঝাড়গ্রাম এখন মাওবাদী মুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূমে মাওবাদীদের প্রভাব রয়েছে। ভোটের আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলার সীমানা সড়ক ও জঙ্গল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই প্রতি জেলার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উপর নজরদারি শুরু হয়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন কমিশনের নির্দেশ মেনে আইনশৃঙ্খলাজনিত প্রতি সপ্তাহের রিপোর্ট পাঠাচ্ছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, কমিশনের নির্দেশে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক, বিস্ফোরণের উপকরণ উদ্ধারের তথ্যের বিস্তারিত রিপোর্ট উল্লেখ করতে হবে। বেআইনি অস্ত্র কারবারে গ্ৰেপ্তারের পরিসংখ্যান দিতে হবে। স্থানীয় দুষ্কৃতী ও ভোটের সময় গোলমালে যুক্ত হতে পারে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার যাবতীয় তথ্য উল্লেখ করতে হবে ওই রিপোর্টে।
জেলার ডিইও-র কাছে প্রতিটি থানা থেকে রিপোর্ট আসবে। জেলা থেকে সেই রিপোর্ট আবার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পৌঁছে যাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মত, নির্বাচনের দিন ঘোষণার অনেক আগে থেকেই কমিশন জেলার আইনশৃঙ্খলার রিপোর্ট সংগ্ৰহ করতে শুরু করে। জেলার স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল এলাকা চিহ্নিত করা হয়। নির্বাচনের সময় স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনার লক্ষ্যে এবারও প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
ঝাড়খন্ড ও ওড়িশা লাগোয়া গোপীবল্লভপুরে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া নিয়ে মাস খনেক আগে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে দু’জন গ্ৰেপ্তারও হয়েছিল। জেলা পুলিশের তরফে সেইসময় এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কথা জানানো হয়। পাশের রাজ্য থেকে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের হাত দিয়ে এলাকায় অস্ত্র ঢুকছে বলে অভিযোগ রয়েছে ।
বিনপুর -১ ও ২ ব্লকের জঙ্গল এলাকা একসময় মাওবাদীদের গড় ছিল বলা চলে। ভোটের আগে এসব এলাকায় বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশকা মেনে জেলার জাতীয় ও রাজ্য সড়কগুলিতে নাকা চেকিংয়ে জোর বাড়ানো হয়েছে। ভিনরাজ্য থেকে আসা লরির উপর তল্লাশি চলছে। বেআইনি মদের ডেরায় হানা দিচ্ছে পুলিশ। কোথায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য আছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোলমাল করতে পারে এমন দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। জেলার এক নির্বাচন আধিকারিক বলেন, ঝাড়গ্রামের প্রতিটি থানা থেকে রিপোর্ট আসছে। সেই রিপোর্ট পিডিএফ ও এক্সেল ফরম্যাটে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্যই হল শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করা ।