সংবাদদাতা, কান্দি: রাস্তার পাশে মজুত রয়েছে ইট, বালি, পাথর। তবে, প্রচার রয়েছে সেগুলি বাড়ি তৈরির জন্য মজুত করা হয়েছে। যদিও এর আড়ালে চলছে সরকারি রাস্তা দখল করে নির্মাণ সামগ্রী বিক্রির ব্যবসা। যার ফলে রাস্তাগুলি সংকীর্ণ হওয়ার সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনা। কান্দি মহকুমার অধিকাংশ রাজ্য সড়কগুলিতেই সম্প্রতি এই ছবি দেখা যাচ্ছে।
মহকুমার ব্যস্ততম একটি রাস্তা হল বহরমপুর সুলতানপুর ১১ নম্বর রাজ্য সড়ক। ওই রাস্তার বড়ঞা থানার কুলি থেকে কান্দি থানার জীবন্তি পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাস্তার দুই দিকে শতাধিক জায়গায় জমা করা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। তবে, কোথাও পাহাড় প্রমাণ নির্মাণ সামগ্রী মজুত করা হয়নি। ছোট ছোট করে নির্মাণসামগ্রী মজুত করা হয়েছে। রাস্তার পাশে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ইটের সারি, পাথর ও বালি। ফলে সেখানেই দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে বলে দাবি।
প্রায় একই ছবি দেখা গিয়েছে ফরাক্কা হলদিয়া বাদশাহি সড়কেও। ওই রাস্তার মুরচা, নগর, হাটপাড়া, ফকিরপাড়া ইত্যাদি এলাকায় রাস্তার পাশে নির্মাণ সামগ্রী মজুতের ছবি দেখা গিয়েছে। শেরপুর জীবন্তি রাজ্য সড়কেও একই ছবি। আর রাস্তার পাশে এভাবে নির্মাণ সামগ্রী মজুত রাখার কারণে বেড়ে চলেছে দুর্ঘটনা।
সম্প্রতি বহরমপুর সুলতানপুর রাজ্য সড়কে কুলি ঢোকার আগে রাস্তার পাশে নির্মাণ সামগ্রী মজুত রাখার কারণে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। কুমরাই গ্রামের বাসিন্দা আলি মহম্মদ বলেন, গত চারদিনে এই রাস্তায় দু’টি মোটরভ্যান উল্টে গিয়েছে শুধুমাত্র রাস্তার পাশে বালি মজুত রাখার কারণে। জখম হয়েছেন দুই গাড়ির চালক। তাঁদের মধ্যে সমীর মোল্লা নামের একজনকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছে। ওই গ্রামের অপর বাসিন্দা রাসেদ শেখ বলেন, গত বুধবার রাতে আমার ভাইপো তুহীন শেখ বাইকে করে বাড়ি ফেরার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। রাস্তার পাশে মজুত বালিতে বাইকের চাকা স্লিপ হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। ওর ডান পা ভেঙে গিয়েছে। প্রায় একই অভিযোগ মহকুমার অন্যান্য এলাকাতেও। রাস্তার পাশে এইভাবে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার কারণে দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাড়ি তৈরির নাম করে নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার পাশে এভাবেই ফেলে রাখা হচ্ছে। আসলে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অবৈধভাবে চুটিয়ে এভাবেই ব্যবসা করে যাচ্ছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও কাজ হয় না। ঘটনায় কান্দি মহকুমা শাসক প্রদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাড়ির তৈরির নামে রাস্তার পাশে নির্মাণ সামগ্রী মজুত করা বেআইনি। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হবে। কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, এমন অবস্থা গত বছরেও দেখা গিয়েছিল। তবে, এবছর বেশি মনে হয়েছে। প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে এইসব অবৈধ ব্যবসায়ীরা পেয়ে বসছে। যার ফল ভোগ করছেন সাধারণ মানুষ।