নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরস্বতী ঠাকুর, ছোট্ট, বাচ্চা বাচ্চা, আর পাঁচটা শিশুর মতো অনাবিল, পবিত্র হাসি তার মুখে। সে দারুণ কিউট। এবছর কুমোরটুলিতে এই পুঁচকে সরস্বতীরই জয়জয়কার। ছোট ছোট হাতে তাঁকে নমস্কার জানাবে খুদেরা। ছোট্ট হাতে আশীর্বাদ করবেন কিউট সরস্বতী। তাঁকে ঘিরেই শিশুকণ্ঠে মন্ত্রোচ্চারণ, ‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোহস্তু তে।’ হাতে আর কয়েকটি দিন মাত্র। ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো।
সরস্বতীর চিরাচরিত মূর্তির রূপে বদল ঘটিয়ে এই নয়া ঘরানা নিয়ে এসেছিলেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী দীপঙ্কর পাল। ৩৭ বছরের শিল্পীর উদ্ভাবনই এবছর নয়া ট্রেন্ড সেট করে দিয়েছে কুমোরপাড়ায়। কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী সংগঠন সূত্রে খবর, চলতি বছর শতাধিক কিউট সরস্বতীর অর্ডার এসেছে। একাধিক শিল্পী বরাত পেয়েছেন।
দীপঙ্করবাবু ২০১২ সাল থেকে কুমোরটুলিতে মূর্তি গড়ছেন। তিন প্রজন্ম এ কাজে যুক্ত। দাদু ও বাবার কাছে প্রতিমা গড়ায় হাতেখড়ি। কলকাতার একাধিক নামকরা দুর্গাপুজোর ঠাকুর বানিয়েছেন। ২০২৫ সালে মধ্য কলকাতার চোরবাগানের একটি পুজো কমিটিকে ছোট্ট মেয়ের মতো সরস্বতীর মূর্তি গড়ে দিয়েছিলেন। সে ঠাকুর ছিলেন খুব কিউট। মুখে মিষ্টি হাসি। তাঁর বাহন হাঁসটিও খেলনা মতো দেখতে। সেই ঘরানাই সরস্বতী পুজোর সময়ও বাজিমাত করেছে। মানুষ তা দেখে খুব খুশি। সোশাল মিডিয়ার ভাইরাল এই ছোট্ট ঠাকুর। এরপর দীপঙ্করের কাছে একের পর এক বরাত আসে। তিনি জানান, চোরবাগানের কিউট সরস্বতীর পর আসানসোলে কিউট দুর্গা হয়। তারপর কালী, লক্ষ্মী, জগদ্ধাত্রীও হয়েছে। এখন এই মূর্তি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, তৈরি হচ্ছে কুমোরটুলির সর্বত্র।
এবার অনেক শিল্পী এই আদলের মূর্তি তৈরি করছেন। দীপঙ্কর সে কারণে খুশি। তবে ভবিষ্যতে এই স্টাইলেও বদল আনতে চান। বলেন, ‘একটা সৃষ্টি মানুষের মনে দাগ কেটেছে। কুমোরটুলির অনেক শিল্পীর কাছে বিভিন্ন ক্লাব এই মূর্তির বরাত দিয়েছে। তবে সবসময় একই স্টাইল ধরে রাখা তো কাজের ক্ষেত্রে ভালো নয়। তা ভাঙতে হবে। নতুনত্ব আনতে হবে। তাই নতুন কিছু ভাবছি।’ শিল্পী হিসেবে নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান দীপঙ্কর। তবে নতুনকে যেমন বরণ করে নিয়েছেন শিল্পীরা তেমনই ঐতিহ্যও ধরে রেখেছেন। যেমন চিরাচরিত মূর্তি তৈরি হয় কুমোরটুলিতে সেরকমও হচ্ছে। ভালো সংখ্যাতেই হচ্ছে। এর পাশাপাশি হচ্ছে আর্টের ঠাকুরও ।
সকলকে নতুন সরস্বতীর রূপে মুগ্ধ করে তোলা দীপঙ্কর অবশ্য প্রথম নন। এর আগেও নয়া ট্রেন্ড দেখা গিয়েছিল। তা এনেছিলেন খ্যাতনামা শিল্পী সনাতন দিন্দা। তাঁর তৈরি গৌতম বুদ্ধের মুখের আদলে তৈরি দুর্গামূর্তি চোখ টেনেছিল মানুষের। পরবর্তী সময় সেই আদলে একাধিক প্রতিমা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। এখন দীপঙ্করের তৈরি মিষ্টি, কিউট সরস্বতী কুমোরটুলিজুড়ে ঝলমল করছে। ক’দিন বাদেই তিনি প্যান্ডেল আলো করে বসবেন। তখন তাঁকে দু’চোখ ভরে দেখার সুযোগ মিলবে। নিজস্ব চিত্র