নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রধানমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতি নিয়ে বিজেপিতে ডামাডোল তুঙ্গে। সিঙ্গুরের ওই সভার আয়োজনে বেনজির বিশৃঙ্খলাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরেই। সভার ছ’দিন আগেও পদ্মপার্টির দায়িত্বপ্রাপ্তরা কার্যত একটি কাজও গুছিয়ে করতে পারেননি, এমনই অভিযোগ উঠেছে। তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, সেই অভিযোগ তুলেছেন দিল্লির নজরদার নেতা মঙ্গল পান্ডে। বিহারের মন্ত্রী ওই নেতাকেই রাজ্য তথা হুগলি বিজেপির নজরদারির দায়িত্ব দিয়েছে দল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার তিনি হুগলির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে সভার প্রস্তুতির বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের লেজেগোবরে অবস্থা দেখে বিস্তর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ‘হেভিওয়েট’ সভা নিয়ে একরাশ দুশ্চিন্তার সঙ্গেই তিনি জেলা ছাড়েন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক বিজেপি নেতা বলেন, ওই পর্যবেক্ষক এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন যে, তিনি কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি হতাশ হয়ে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতি ঘিরে বেনজির অব্যবস্থা চলছে। গোটা দেশে কোথাও এমনটা কখনও হয়নি। ক্ষুব্ধ ওই নেতা কটাক্ষ করে বলেন, আপনারা একটি সভা ঠিক করে করতে পারেন না, অথচ জেলায় কর্তৃত্ব করার স্বপ্ন দেখেন! দলীয় পর্যবেক্ষকের ক্ষোভের কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এটা শীতকাল। ফলে কাজে কিছু সমস্যা হচ্ছে। আবার আমাদের একগুচ্ছ দলীয় কর্মসূচিও পালন করতে হচ্ছে। সেকারণে সর্বত্র সমানভাবে সময় দেওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর সভা সাফল্যের সঙ্গে আয়োজনে কোনও ত্রুটি হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে দলের অব্যবস্থার খণ্ডচিত্র ধরা পড়েছে এদিনের বৈঠকে। জানা গিয়েছে, ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরের সভার জন্য প্রায় দেড় লক্ষ সাধারণ নাগরিককে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণপত্র এসে পড়ে থাকলেও তা এখনও পর্যন্ত বিলি হয়নি। এই হেভিওয়েট সভাকে ঘিরে প্রচারের কাজ একচুলও এগোয়নি। এমনকি, আশপাশের এলাকায় একবারের জন্য প্রচারও করা হয়নি। এই রিপোর্ট দেখে আকাশ থেকে পড়েন ওই পর্যবেক্ষক। পাশাপাশি সভায় মণ্ডলভিত্তিক কত মানুষ আসবেন, এই প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব কেউ দিতে পারেননি। হাওড়া ও হুগলি জেলা মিলিয়ে প্রায় দেড়শো নেতার একটি প্রস্তুতি কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। অথচ এদিনের বৈঠকে সিংহভাগ নেতাই অনুপস্থিত থাকায় দলের হাল বে-আব্রু হয়েছে মঙ্গল পান্ডের সামনে। হুগলি জেলায় বিজেপির এই দশা দেখে কর্যত থ হয়ে গিয়েছে ওই পর্যবেক্ষক। বৈঠক শেষে দলের অন্দরে এ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পারস্পরিক আকচা-আকচির নতুন অধ্যায়ও শুরু হয়েছে।