শুনানিতে যাওয়ার পর থেকেই অসুস্থ, বাদুড়িয়ায় প্রৌঢ়ার মৃত্যুতে ফের ‘কাঠগড়ায়’ এসআইআর
বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআর সংক্রান্ত টানাপোড়েন ও ‘আতঙ্কে’ মৃত্যুর অভিযোগ অব্যাহত। এক সপ্তাহে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় এসআইআর আতঙ্কে ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই তালিকায় যুক্ত হল বাদুড়িয়া। এসআইআর আতঙ্কে সোমবার ভোরে প্রাণ গেল ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধার। নাম অনিতা বিশ্বাস। বাড়ি বাদুড়িয়া পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে। পরিবারের দাবি, এসআইআরের শুনানিতে যাওয়ার পর থেকে তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার ‘আশঙ্কা’ চেপে বসে তাঁর মধ্যে। এর জেরেই ‘ব্রেন স্ট্রোকে’ মৃত্যু হয় প্রৌঢ়ার।
পরিবারের সদস্যদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকলেও অনিতার ছিল না। ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দিলেও উপযুক্ত তথ্য দিতে পারেননি। এসআইআরের শুনানি নোটিস আসে প্রৌঢ়ার কাছে। গত ৫ জানুয়ারি শুনানি কেন্দ্রে হাজির হন তিনি। সেখানে নথিও জমা দেন। তারপরও ‘আতঙ্ক’ ও ‘আশঙ্কা’ কিছুই কাটছিল না। গত ৭ জানুয়ারি ব্রেন স্ট্রোক হয় তাঁর। তড়িঘড়ি তাঁকে বাদুড়িয়া রুদ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। সোমবার ভোরে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় প্রৌঢ়ার। মৃতার ছেলে কাশীনাথ বিশ্বাস বলেন, শুনানি থেকে ফিরে আসার পর থেকে মা টেনশন করছিল। বলত, জেলে ভরে দেবে না তো? সেই চিন্তাতেই মায়ের স্ট্রোক হয়। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। তৃণমূল নেতা শাহনওয়াজ সর্দার বলেন, বৃদ্ধার পরিবারের সমস্ত সদস্যের নাম রয়েছে ২০০২ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায়। একমাত্র তাঁরই নাম বাদ যায়। অথচ, ১৯৯৫ সাল বা ২০০২ সালের পরবর্তী সব ভোটার লিস্টে নাম রয়েছে ওঁর। এর দায় নির্বাচন কমিশনের। বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলেন, এসআইআর আতঙ্ক হল তৃণমূলের তৈরি কৃত্রিম একটি অসুখ। এসআইআর আতঙ্কে আক্রান্ত তৃণমূলই।