• একদা লালদুর্গে উন্নয়নের পাঁচালি, শাসন ও হাড়োয়ায় বাড়ি বাড়ি প্রচার তৃণমূলের
    বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এক সময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া ও শাসন। লাল পতাকার দাপট, সংগঠিত ক্যাডার ও ভোটব্যাঙ্ক মিলিয়ে এই এলাকা ছিল সিপিএমের দুর্গ। বিগত নির্বাচনগুলিতে এখানে তারা না জিতলেও ভালো ভোট পেয়েছে। তবে সেই রাজনৈতিক জমিতেই উন্নয়নের আখ্যানকে সামনে রেখে জোরদার প্রচারে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। হাড়োয়া ও শাসনের গ্রামগঞ্জে এখন চোখে পড়ছে তৃণমূলের দুয়ারে উন্নয়নের প্রচার। দলীয় কর্মী ও নেতারা সরাসরি মানুষের দরজায় পৌঁছে তুলে ধরছেন গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নের কথা। পাড়াভিত্তিক আলোচনা, উঠোন বৈঠক সব মাধ্যমেই চলছে উন্নয়নের পাঁচালির প্রচার। পাশাপাশি বিশিষ্ট মানুষ, শিক্ষক, সমাজকর্মীদের সংবর্ধনার মাধ্যমে তৃণমূল বার্তা দিতে চাইছে যে, উন্নয়নের যাত্রায় সকলকে সঙ্গে নিয়েই এগতে চায় তারা।

    হাড়োয়া ও বারাসত ২ ব্লকের শাসন এলাকা মেছো ভেরিবেষ্টিত। এই ভেরির দখলদারি নিয়ে একটা সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। গুলি বা বোমা- কোনও কিছুই বাদ থাকেনি। এখন অবশ্য শান্ত এই দুই এলাকা। তবুও শাসনের দাপুটে সিপিএম নেতা মজিদ মাস্টারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এখনও লোকমুখে ফেরে। যদিও রাজনীতিতে তাঁকে আর সেই অর্থে দেখা যায়নি। সিপিএমের ভোট এখানে বিজেপি, নয়তো ঘুরে গিয়েছে আইএসএফের দিকে। ফলে, রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট স্পর্শকাতর শাসন ও হাড়োয়া। সেখানেই তৃণমূল নেতারা যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। শুধু বাড়ি নয়, মেছো ভেড়িতে গিয়েও বিধায়ক সহ নেতারা শুনছেন মানুষের কথা। কোনও অভিযোগ থাকলে তাও লিপিবদ্ধ করছেন।

    প্রচারের কেন্দ্রে আছে রাস্তাঘাট ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন। একদা বর্ষায় কাদায় ভরে যেত রাস্তা। সেখানে কংক্রিটের রাস্তা, কালভার্ট ও ছোট সেতু হওয়ায় যোগাযোগ আরও সুগম হয়েছে। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পগুলি মহিলাদের জীবনে আর্থিক স্বস্তি এনেছে বলে দাবি করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এনিয়ে শাসনের দাদপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আব্দুল হাই বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যয়ের নির্দেশ মতো আমরা মানুষের দুয়ারে যাচ্ছি উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে। বিরোধী দলের সমর্থকদের পরিবারও আমাদের সাদরে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। দিদির ১৫ বছরের উন্নয়নের সুফল যে দলমত নির্বিশেষে সকলে পাচ্ছেন, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন সবাই। তাঁরা বলছেন, বাংলা সুরক্ষিত দিদির হাতেই। এদিকে হাড়োয়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি সফিক আহমেদের কথায়, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা দেখে আমরা অভিভূত। আমাদের এই কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলবে।
  • Link to this news (বর্তমান)