• হালিশহরে আইন না মেনে গঙ্গাপাড়ে রিসর্ট! বিতর্ক তুঙ্গে
    বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: হালিশহরে গঙ্গার ধারে জাহাজ কারখানার জমিতে তৈরি হয়েছে রিসর্ট। এমনকী বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে নালাও। জমির চরিত্র বদল করে পুরসভার কোনও অনুমতি ছাড়াই নাকি ওই বিল্ডিং তৈরি হয়েছে এবং তা রিসর্ট হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। কখনও বিয়ে বা অন্য কোনও অনুষ্ঠান বা কখনও পিকনিকের জন্য তারস্বরে বাজানো হচ্ছে মাইক, বক্স। অতিষ্ঠ বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যদিও হালিশহর পুরসভার সাফাই, সবদিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রাচীন ও ঐতিহাসিক হালিশহরের খাসবাটি এলাকায় ঘোষপাড়া রোডের ধারে গঙ্গার পাড় ঘেঁষে তৈরি হয়েছে ওই রিসর্ট। এটি হালিশহরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রাজু সাহানির রিসর্ট হিসেবে বর্তমানে পরিচিত। এই রিসর্টে জমির চরিত্র বদলের অভিযোগ ঘিরে আগে তৎকালীন বিএলএলআরও দীপঙ্কর রায় তদন্ত করেছিলেন এবং হানা দিয়েছিলেন ওই রিসর্টে। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, রিসর্টটি বানানোর ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি। পরে পুরসভাও জমির মালিকের ঠিকানায় দু’বার শুনানির নোটিশ দিয়ে এসেছিল। দুবার শুনানিও হয়েছিল। দীপঙ্করবাবু বদলি হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, শাসকদলের নেতার রিসর্ট বলেই কি সব চাপা দিয়ে রাখা হচ্ছে? নিয়ম অনুযায়ী অন্যের জমিতে কোনও নির্মাণ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট মালিকের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট লাগে। শুধু তাই নয়, পুরসভার থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিও লাগে। পুরসভারই নথি বলছে, এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। ফলে দু’বার পুরসভা শুনানিতে ডাকে জমির মালিককে। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হিমানীশ ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে শুনানিও হয়। কিন্তু দুবারই ওই রিসর্টের যে প্রতিনিধি শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন, তিনি প্রয়োজনীয় কোনও নথি দেখাতে পারেননি বলে পুরসভা সূত্রে খবর।  সোমবার হিমানীশবাবু বলেন, ওই রিসর্টটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ কমার্শিয়াল ট্যাক্স দেওয়া হচ্ছে না। সে কারণেই শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। আমার ঘরে শুনানির পরে এগজিকিউটিভ অফিসারের ঘরেও একবার শুনানি হয়েছিল। কিন্তু সঠিক কাগজ দেখাতে পারেননি প্রতিনিধি। পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষ বলেন, ওই রিসর্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বিষয়টি নিয়ে বর্তমান বিএলএলআরও সুরজিৎ বাগ বলেন, আগের বিএলএলআরও নিশ্চয়ই রিপোর্ট দিয়ে গিয়েছেন। এসআইআর নিয়ে এই মুহূর্তে খুব ব্যস্ত আছি। এসআইআর মিটলে অবশ্যই বিষয়টি দেখব। উল্লেখ্য, জাহাজ কারখানার ওই জমি দখলের পাশাপাশি গঙ্গা তীরবর্তী নদীর অংশও কিছুটা দখল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল।  তবে রিসর্টের কর্ণধার রাজু সাহানি বলেন, যা বলা হচ্ছে সবই ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি এখন এই জমির মালিক। আর যে নালার কথা বলা হচ্ছে সেটি পুরসভা অন্য জায়গায় করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, বছরখানেক আগে একটি চিটফান্ড মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রাজু সাহানি। তাঁর রিসর্টে হানা দিয়ে সে সময় সিবিআই আগ্নেয়াস্ত্র ও নগদ টাকাও উদ্ধার করেছিল। স্বাভাবিকভাবেই শাসকদলের মুখ পোড়ে ওই ঘটনায়। পরবর্তীতে তাঁকে হালিশহরের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করে তৃণমূল। সম্প্রতি তাঁর ওই রিসর্টে একটি পিকনিকে এবং তার কয়েকদিন আগে তাঁর বাড়িতে প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং গিয়েছিলেন। ফলে রাজুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও এখন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তার মাঝে রিসর্ট বিতর্ক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে।  বিতর্কিত রিসর্ট।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)