চলতি মাসেই প্রথম দফায় হকারদের শংসাপত্র দিতে তোড়জোড় পুরসভার
বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি জানুয়ারিতেই হকার শংসাপত্র দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। গত বছর ১৬ আগস্ট প্রথম দফায় কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল ভেন্ডিং সার্টিফিকেট বা হকার শংসাপত্র দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, বিশেষ কারণে তা দেওয়া যায়নি। পুরসভা সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় অনুমোদন মেলায় এ মাসেই অন্তত ৮ হাজার ৭২৭ জন হকারকে শংসাপত্র দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।
এই শংসাপত্রে সংশ্লিষ্ট হকারের যাবতীয় তথ্য থাকবে। তিনি অন্যকে স্টল বিক্রি করলে বা নিজে হকারি না করে জায়গা ভাড়া দিলে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে তা সহজেই ধরা পড়বে। পুরসভা মনে করছে, এর ফলে স্টল বা ডালা বিক্রির প্রবণতা আটকানো যাবে। পাশাপাশি বেআইনি হকারদেরও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সার্টিফিকেট পিছু নেওয়া হবে বছরে ৮০০ টাকা। পুনর্বাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার বলেন, ‘চলতি মাসেই প্রথম দফার সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। ২০১৫ সালে এবং সম্প্রতি হওয়া হকার নিয়ে সমীক্ষা কর হয়। দু’টি তালিকায় যাঁদের নাম আছে এবং যাঁরা নিয়ম মেনে ফুটপাতে নির্দিষ্ট অংশে হকারি করছেন, তাঁদের প্রথম লপ্তে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। বাকি অংশ নিয়ম মেনে ব্যবসা করলে শংসাপত্র পাবেন। সার্টিফিকেট দেখিয়ে ব্যাংক থেকেও ঋণ নিতে পারবেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহরের যত্রতত্র হকার বসা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তারপর দখলদার সরাতে অভিযান শুরু হয়। ২০২৪ সালে পুজো এসে যাওয়ায় সেই কাজ থমকে যায়। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ফের শুরু হয় অভিযান। ২০২৪ সালে সমীক্ষা করে শহরের ৫৪ হাজার ১৭৮ জন হকারকে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম দফার সমীক্ষায় নথিভুক্ত হয়েছিল প্রায় ১৪ হাজার হকারের নাম। তাঁদের থেকে আপাতত ৮ হাজার ৭২৭ জনকে শংসাপত্র দেওয়া হবে। টিভিসির সদস্য এক হকার নেতা বলেন, ‘অনেকে বেশি জায়গা নিয়ে বসেন। জায়গার মাপ ঠিক করে নিলে তাঁরা পরবর্তী ধাপে সার্টিফিকেট পাবেন।’