নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের শুরু শুরু হতে চলেছে বিয়ের মরশুম। তার আগে নতুন করে নজির গড়ল সোনার দর। পাল্লা দিয়ে চড়ল রুপোও। গত ২৭ ডিসেম্বর কলকাতায় সোনার দাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ২৫০ টাকায় পৌঁছেছিল। সেটাই ছিল শহরের সর্বোচ্চ সোনার দর। সোমবার ১২ জানুয়ারি সেই দরকেও টপকে গেল সোনা! ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ান মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন কলকাতায় ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধতার ১০ গ্রাম সোনার দর যায় ১ লক্ষ ৪১ হাজার ২০০ টাকা। এই দর গত শনিবার ছিল ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪৫০ টাকা। রবিবার সোনা-রুপোর পাইকারি বাজার বন্ধ থাকার পর, সোমবারই তা ১ হাজার ৭৫০ টাকা বেড়ে যায়। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ২২ ক্যারেট গয়নার সোনাও। এদিন এই বিশুদ্ধতার সোনার ১০ গ্রামের দর যায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ২০০ টাকা।
দিল্লিতে এদিন ২৪ ক্যারেট সোনার সর্বোচ্চ দর পৌঁছেছে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬০০ টাকায়। সোনার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপোর দরও। শহরে এদিন কেজি প্রতি আড়াই লক্ষ টাকার সীমা পেরিয়ে যায় রুপো। এদিন এক কিলো খুচরো রুপোর দাম ছিল কলকাতায় ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা। শনিবারের তুলনায় দাম বেড়েছে এক ধাক্কায় প্রায় ৯ হাজার টাকা। দিল্লিতে কেজি প্রতি রুপো ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকায় পোঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দাম বৃদ্ধিতে কয়েকমাস ধরে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে আমেরিকা। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ হওয়ার কথা চলতি সপ্তাহে। তা আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত হতে পারে। এই বিষয়টি বিশ্ববাজারে আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তার ফলে তুলনামূলক কম ঝুঁকির লগ্নি হিসেবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সোনা ক্রয়ের আগ্রহ বাড়ছে। চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়ছে সোনার। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়া এবং আগামী দিনে সেদেশের অর্থনীতি নেতিবাচক হওয়ার আশঙ্কা, সোনার দামে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিস্তার করতে চলেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতি। সেখানেও আমেরিকার হস্তক্ষেপ নতুন উদ্বেগ যোগ করেছে।
অর্থাৎ সোনার দাম আগামী দিনগুলিতেও বিশেষ কমবে না বলেই ইঙ্গিত করছেন তাঁরা। অন্যদিকে, রুপোর দামবৃদ্ধির কারণ যেমন আমেরিকার অর্থনীতি, তেমনই শিল্পক্ষেত্রে, বিশেষত উৎপাদন শিল্পে রুপোর চাহিদা বৃদ্ধি সাদা ধাতুর দামকে টেনে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, বাজারে যে পরিমাণ রুপোর চাহিদা আছে, সেই তুলনায় খনি থেকে রুপো উত্তোলন হচ্ছে না। চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব রুপোর দামবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে তাঁরা জানাচ্ছেন।