• ‘ডোভার লেনের শ্রোতা অত্যন্ত জ্ঞানী’
    বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। তারপরেই সংগীতের সপ্তসুরে মুখরিত হয়ে উঠবে নজরুল মঞ্চ চত্বর। সৌজন্যে ‘দ্য ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স’। চার রাতব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বাঁশির সুরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করবেন পণ্ডিত রূপক কুলকার্নি। প্রথমবার ডোভার লেনে অনুষ্ঠান করবেন শিল্পী। কেমন লাগছে? রূপকবাবু বলেন, ‘অধীর আগ্ৰহে অপেক্ষা করছি। ডোভার লেনের শ্রোতা অত্যন্ত জ্ঞানী ও সমঝদার। সংগীতকে ভালোবাসেন। নিজের সেরাটা তুলে ধরার চেষ্টা করব।’ কলকাতায় প্রথম অনুষ্ঠানের কথা কিছু মনে পড়ে ? শিল্পীর কথায়, ‘১৯৮৮ সালে প্রথমবার এই শহরে সংগীত পরিবেশন করেছিলাম। আমার আগে ছিলেন বিদূষী কিশোরী আমনকর ও তাঁর শিষ্য। পরের শিল্পী ছিলেন আমার গুরু পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। দু’জন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর মাঝে অনুষ্ঠান করাটা খুব কঠিন। তবে শ্রোতারা খুব উৎসাহ দিয়েছিলেন।

    শিল্পীর জীবনে গুরুর প্রয়োজনীয়তা কতটা? রূপকবাবু মনে করেন, ‘ভালো গুরু না পেলে শিল্পী হওয়া যায় না। এটা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গুরুর সান্নিধ্য পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। বাবা ও পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার পাশাপাশি বিদূষী পদ্মাবতী শালিগ্ৰাম, উস্তাদ আবদুল রসিদ খানের কাছে তালিম পেয়েছি। মা অন্নপূর্ণাদেবীর কাছেও শিখেছি। এক্ষেত্রে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হয়।’

    সোনাক্ষী, রং মল্লারের মতো নতুন রাগ সৃষ্টি করেছেন রূপক। আবিষ্কারের পিছনে অনুপ্ররেণা কী ছিল? শিল্পীর কথায়, ‘একবার ৫০ ঘণ্টার সংগীত সম্মলনে বাজানোর সুযোগ হয়েছিল। আমি ছিলাম শেষের দিকে। আগের শিল্পীরা প্রায় সব রাগ পরিবেশন করে ফেলেছিলেন। তখন রাগ সোনাক্ষী তৈরি করি। এতে মারোয়ার ঋষভ ও শুদ্ধ বসন্তের মধ্যমের প্রয়োগ রয়েছে। রং মল্লারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। মল্লার ফেস্টিভাল চলছিল। নতুন রাগের সন্ধান করতে গিয়ে শুদ্ধ সারং আর মিয়া মল্লারের কথা মাথায় আসে। দুই রাগের মেলবন্ধনে তৈরি হয় রং মল্লার। মা অন্নপূর্ণাদেবীর প্রয়াণের পর শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে রাগ অন্নপূর্ণা তৈরি করেছিলাম।’
  • Link to this news (বর্তমান)