• গর্ভের সন্তান-সহ তরুণীর মৃত্যু, হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের
    এই সময় | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, মালদা: গর্ভের সন্তান-সহ তরুণীর মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠতেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাসপাতাল চত্বর। চেয়ার, টেবিল ছুড়ে হাসপাতালে ভাঙচুরের চেষ্টা চলে। দফায় দফায় চলে বিক্ষোভ। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে উর্দিধারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন মৃতার পরিবারের সদসরা। পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে মৃতার পরিবারের ছ'জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মহকুমা স্বাস্থ্য দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানায় মৃতার পরিবার।

    সোমবার ঘটনাটি ঘটে মালদার চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। পুলিশ সূত্রে খবর, এ দিন সকাল আটটা নাগাদ চাঁচল থানার খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের জাসুয়া এলাকার বাসিন্দা সাহানাজ খাতুনকে (২৭) প্রবল প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, দুপুর ১টা নাগাদ আচমকা তরুণীকে সিজ়ার করতে হবে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এরই মাঝে সাহানাজের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের কাছে খবর আসে, গর্ভের সন্তান-সমেত তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎকসায় গাফিলতির কারণেই সাহানাজ এবং তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে হাসপাতাল চত্বরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে পাড়া-প্রতিবেশীরাও এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। সবমিলিয়ে জনা ৫০ মানুষের জটলা হতেই হাসপাতালের মূল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। দরজায় সমানে লাথি মারতে থাকেন মৃতার পরিবারের লোকজন এবং পাড়া-প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসে পুলিশ। পরিস্থিতি সামলাতে গেলে উল্টে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে বচসা বেধে যায় উর্দিধারীদের। বেশ কিছুক্ষণ রীতিমতো পুলিশ-জনতা ধস্তাধস্তি চলে। তার পরেই সেখান থেকে ছ'জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    মৃতার স্বামী পেশায় আনাজ ব্যবসায়ী আশরাফুল হক বলেন, 'স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরে প্রথমে বলা হয় নরমাল ডেলিভারি হয়ে যাবে। দুপুরে আচমকা আমাদের ফোন করে জানানো হয়, স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। সিজ়ার করতে হবে। এর কিছুক্ষণ পরেই খবর পাই আমার স্ত্রী এবং তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।' তাঁর অভিযোগ, 'চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই আমার বউয়ের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে আমার দুই সন্তান হয়েছে নরমাল ডেলিভারিতেই। তৃতীয়বার কেন এমন ঘটল!' তাঁর দাবি, 'সময়ের মধ্যে কোনও ডাক্তার পাওয়া যায়নি।'

    এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন মৃতার দাদা আব্বাস আলি। তাঁর কথায়, 'লেবার রুমে বোনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে অ্যানাসথেটিস্ট ছিলেন। কিন্তু কোনও ডাক্তার ছিলেন না। ওঁদের উদাসীনতার কারণেই বোনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।' হাসপাতালে ভাঙচুর প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, 'খবর ছড়াতেই পাড়া-প্রতিবেশীরা স্বাভাবিক ভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু ভাঙচুর বা কাউকে হেনস্থা করা হয়নি। তবু পুলিশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না-নিয়ে আমাদের পরিবারের ছ'জনকে আটক করেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।'

    এ দিকে ঘটনায় পরিবারের উপরেই দেরিতে ভর্তি করানোর অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের সুপার সামিম আখতার। তাঁর মন্তব্য, 'প্রথম থেকেই ওই রোগীর অবস্থা খারাপ ছিল। প্রসবের সময় হয়ে গেলেও পরিবারের লোকেরা দেরি করে তাঁকে ভর্তি করান। ফলে প্রসব-যন্ত্রণা মাত্রা ছাড়ায়। এখানে পরিবারের লোকেদের গাফিলতি আছে। দেরি করে আনার পাশাপাশি তরুণীর সঠিক যত্ন নেওয়া হয়নি। ফলে তড়িঘড়ি লেবার রুমে সিজ়ারের জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও তার আগেই হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় পেশেন্টের। গর্ভের সন্তানকেও বাঁচানো যায়নি।'

    এ বিষয়ে চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহা জানান, এক গর্ভবতীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছ'জনকে আটক করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)