• SIR শুনানিতে ১০ শতাংশের বেশি মানুষ হাজিরই হননি, ‘ভূতুড়ে ভোটার’-দের নিয়ে চিন্তায় নির্বাচন কমিশন
    এই সময় | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার)-এর খসড়া তালিকার ‘আনম্যাপড’ ভোটার ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন। তাঁদের শুনানি প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের মধ্যে দশ শতাংশেরও বেশি মানুষ শুনানির নোটিশ পেয়েও হাজিরা দেয়নি। শুনানির জন্য নতুন করে সময়ও চাননি। তাই তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আদৌ ঠাঁই পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কমিশনের কর্তাদের মতে, ‘ভূতুড়ে ভোটার’দের একটা অংশ এই এনিউমারেশন ফর্ম ফিলআপ করে থাকতে পারেন।

    কারণ, অনেক এলাকায় বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) একাংশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করে আসতে পারেননি। হয়তো তাঁরা মাঝরাস্তায় কারও হাত দিয়ে কোনও আবাসনের অনেকের ফর্ম পাঠিয়ে দিয়েছেন, আবার কোথাও রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টের (বিএলএ–২) মাধ্যমে সেই ফর্ম বিলি করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে সশরীরে যাচাই করে ফর্ম বিলি সব ক্ষেত্রে না–হওয়ায় এই ‘ভূতুড়ে ভোটার’রা এনিউমারেশন ফর্ম ফিলআপ করে থাকতে পারেন। এখন হিয়ারিংয়ের নোটিস পেয়ে ওই ‘সন্দেহভাজন’ বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটাররা আর সাড়া দেননি, এমনটা হয়ে থাকতে পারে।

    কমিশন সূত্রের খবর, প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ ‘সার’ শুনানিতে হাজিরা দিলেও কমিশনের নির্দেশিত ১৩ নথির একটিও দাখিল করতে পারেননি। পরিবর্তে প্যান কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবুক, কেউ আবার বাড়ির দলিল নিয়ে হাজির হয়েছেন। যা ‘সার’ প্রক্রিয়ায় নথি হিসেবে বিবেচ্য নয়।

    আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ‘সার’–এর শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে এত অল্প সময়ে শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিইও দপ্তর জানিয়েছে, গোটা প্রক্রিয়া সময়ে শেষ করতে আরও লোকের প্রয়োজন। সেই কারণে অতিরিক্ত মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগ করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (এইআরও) সংখ্যা। প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রেই গড়ে পাঁচ জন করে নতুন এইআরও নিয়োগ করা হবে।

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল সোমবার বলেন, ‘যা নথি জমা পড়েছে নিয়মমাফিক তার যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। আনম্যাপড ভোটারদের পাশাপাশি প্রায় আড়াই লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস বিলি হয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য এখনও ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে।’ তিনি জানান, প্রথম দফায় প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনও এক জন পুরুষ বা মহিলাকে হয়তো ছ’–আট জন বাবা–মা হিসেবে দেখিয়েছেন। এই ধরনের আবেদনকারীর সংখ্যা ২৩ লক্ষের বেশি। প্রথমে এঁদেরই শুনানিতে ডাকা হবে।

    এ দিকে, নির্বাচন কমিশন পরিযায়ী শ্রমিকদের হিয়ারিংয়ের নথি জমা দেওয়ার জন্য পোর্টাল চালু করল। সশরীরে শুনানিতে হাজির না হতে পারলেও এই পোর্টালে প্রয়োজনীয় নথি দাখিল করতে হবে। রাজ্যের সিইও দপ্তরের প্রস্তাব মেনে এই পোর্টাল চালু করেছে কমিশন। voters.eci.gov.in এই ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Submit Document Against Notice Issued’ লিঙ্কে এপিক নম্বর দিয়ে ঢুকতে হবে। তারপরে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে।

  • Link to this news (এই সময়)