• স্ত্রীকে খুন করে দেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালানোর অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে, হুগলির ঘটনায় চাঞ্চল্য
    এই সময় | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, আরামবাগ: কলেজে ছাত্রাবস্থায় প্রেম। সেই প্রেম গড়ায় বিয়েতেও। বিয়ের দু'বছর পরেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হলো তরুণীর। দেহ মিলল হাসপাতালে। খুন করে হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে জামাই, অভিযোগ তরুণীর মায়ের। এই ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে এলাকায়। গোটা ঘটনার তদন্তে পুলিশ।

    জানা গিয়েছে, বছর তিনেক আগে জাঙ্গিপাড়ার জেরোট গ্রামের তরুণী লক্ষ্মী দাসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ধনেখালি থানার রাধানগর গ্রামের তরুণ বাপন দুলের। দু'জনেই তখন কলেজের সহপাঠী। বেশ কিছুদিন ধরে প্রেমের পরে দু'বছর আগে বিয়ে করেন তাঁরা। বিয়ের এক বছর পরেই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন লক্ষ্মী। কিন্তু এর পর থেকে একটু একটু সম্পর্কে ভাঙন দেখা দেয় দু'জনের। অভিযোগ ওঠে, অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক আছে বাপনের। এই কথা কানে আসে লক্ষ্মীরও। শুরু হয় দু'জনের মধ্যে অশান্তি। স্বামী-স্ত্রীর এই অশান্তি ক্রমেই বাড়তে থাকে, চরম আকার ধারণ করে। বাপন মদ্যপ অবস্থায় লক্ষ্মীকে মারধর করত বলেও অভিযোগ লক্ষ্মীর পরিবারের।

    অশান্তি চরমে পৌঁছয় রবিবার দুপুরে। বাপন তার শ্বাশুড়ি মিঠু দাসকে ফোন করে বলে, মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে। তার কিছু সময় পরে হঠাৎই বাপনের মা ফোন করে জানান, লক্ষ্মী জ্ঞান হারিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু কী ভাবে, সেই বিষয়ে লক্ষ্মীর পরিবারকে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি। রবিবার সন্ধ্যায় তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছে যান লক্ষ্মীর মা। দেখতে পান, হাসপাতালে ইমারজেন্সি রুমে পড়ে আছে লক্ষ্মীর নিথর দেহ। কান্নায় ভেঙে পড়েন লক্ষ্মীর মা। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, 'আমার কথা শুনল না। বলেছিলাম, ওকে ছেড়ে দিয়ে চলে আয়।'

    পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ম্যাজিস্ট্রেট ইনকোয়েস্ট হওয়ার পরে ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে পাঠানো হবে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ধনেখালি থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। বেপাত্তা লক্ষ্মীর স্বামী বাপন।

  • Link to this news (এই সময়)