এই সময়, আসানসোল: অবশেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরলেন চিত্তরঞ্জন লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের মিহিজামের পাঁচ শ্রমিক। জম্মু ও কাশ্মীরে কাজে গিয়ে লেহ-লাদাখ- চীন সীমান্ত অঞ্চলে শূন্যের নীচে তাপমাত্রায় প্রায় এক মাস আটকে থাকার পরে সোমবার দুপুরে তাঁরা ঘরে ফেরেন।
ফিরে আসা শ্রমিকরা হলেন গান্ধীনগর বস্তির রবি মুশার, দিলীপ বাউড়ি, শিবা দাস, ভোলা তুরি ও সিকন্দর তুরি। জম্মু তাওয়াই-হাওড়া এক্সপ্রেসে তাঁরা ধানবাদ স্টেশনে পৌঁছোন। সেখানে স্থানীয় জনসেবা দলের সদস্যরা তাঁদের স্বাগত জানান। পরে মিহিজাম থানায় আনা হলে ওসি বিবেকানন্দ দুবে ও পুলিশকর্মীরা ফুলের মালা দিয়ে শ্রমিকদের অভ্যর্থনা জানান। তাঁদের পরিবারের লোকজনের চোখে ছিল স্বস্তির জল।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কাশ্মীরে সেতু ও রাস্তার ধারে পাথরের দেওয়াল তৈরির কাজে লাগানো হয় তাঁদের। তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাতের মধ্যে প্রায় এক মাস স্নান না-করেই কাটাতে হয়েছে। একসঙ্গে তিন-চারটি পোশাক পরে দিনরাত থাকতে হতো। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। বাড়ি ফিরতে চাইলে মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
তাঁরা জানান, তাঁদের পাঠানো ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়া ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পরে মিহিজাম থানার পুলিশ ও জনসেবা দল উদ্যোগী হয়। ওসি প্রথম দিন থেকেই উদ্ধারের চেষ্টা চালান। ওসি বিবেকানন্দ দুবে বলেন, 'বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হয়। মিডিয়ার ভূমিকা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে সাহায্য করেছে।' শিবা দাসের বাবা হীরালাল দাসের কথায়, 'পাঁচ জনের ঘরে ফেরা আমাদের কাছে স্বস্তির। দীর্ঘ আতঙ্ক কাটল।'