• 'হাত-পা কেটে নেব', BJP কর্মীদের হুমকি বর্ধমানের তৃণমূল নেতার
    এই সময় | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, বর্ধমান: রাজ্য জুড়ে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) এবং সেই সূত্র ধরে 'সার'-শুনানি নিয়ে তৃণমূল নেতারা বিভিন্ন স্তরে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। সোমবার স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসে তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বিজেপি নেতা-কর্মীদের হাত-পা কাটার নিদান দিয়ে ফেললেন!

    বিবেকানন্দের জন্মদিন স্মরণ করে ভাতার ব্লকের বড়বেলুন-১ পঞ্চায়েতের বারোয়ারিতলায় শীতবস্ত্র বিতরণের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমতো হুমকি দিয়ে বলেন, 'যে ভাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন হচ্ছে, সেটা মানি না। বড়বেলুন-১ পঞ্চায়েত এলাকার ভোটার তালিকা থেকে একজন বৈধ ভোটারের নাম যদি বাদ যায়, এই এলাকার বিজেপি কর্মীদের শরীর থেকে একটি হাত অথবা পা কেটে বাদ দেওয়া হবে।' মঞ্চে থাকা অন্য স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কেউ এই মন্তব্যে পড়ে যান অস্বস্তিতে, কেউ আবার হাততালি দিয়ে সমর্থনও জানান!

    এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ভাবে মোকাবিলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি। এ দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজকৃষ্ণ বলেন, 'আমাদের কাছে খবর আছে, বড়বেলুন-১ পঞ্চায়েত এলাকা থেকে আমাদের বেশ কিছু কর্মীর নাম বাদ চলে যেতে চলেছে। এই এলাকার ভোটার লিস্ট থেকে একজন বৈধ ভোটারের নাম যদি বাদ যায়, তা হলে এক-একজন বিজেপি কর্মীর শরীর থেকে একটি হাত অথবা পা কেটে দেওয়া হবে। অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদীকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।'

    তাঁর সংযোজন, 'আগেও খেলা হয়েছে। কে টিকিট পাবেন অথবা পাবেন না, জানি না। বিধানসভা নির্বাচনে আবার খেলা হবে। যতক্ষণ শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকবে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।' এই প্রসঙ্গে বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, 'একেই বলে বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ। তৃণমূল জেনে গিয়েছে, এই নির্বাচনে তারা আর ক্ষমতায় আসছে না। তাই এ সব হুমকি দিয়ে কর্মীদের উজ্জীবিত করছে।'

    অভিজিৎ আরও বলেন, 'আমরা এই মন্তব্যের ভিডিয়ো ক্লিপিংস জোগাড় করেছি। আইনগত ব্যবস্থা নেব।' জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলামের পাল্টা মন্তব্য, '২০২৬-এ কারা থাকবে আর কারা যাবে, সেটা ঠিক করবেন বাংলার মানুষ। বিজেপির নেতারা নয়। ইডি- সিবিআই জুজু দেখানোর খেলা শেষ হয়েছে। আমরা বলেছি, সার নিয়ে একজন ভোটারের নাম বাদ গেলে আন্দোলন করব। সেই আন্দোলন অবশ্যই হিংসাত্মক নয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করার কথা বলেছেন আমাদের নেতৃত্ব।'

  • Link to this news (এই সময়)