• টেট উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগ হয়নি, চপশিল্পেই এখন খুশি MA পাশ বিশ্বজিৎ
    এই সময় | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • প্রশান্ত পাল, বান্দোয়ান

    চার বছর হলো তাঁর চপশিল্পের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেই শব্দটি প্রথম শুনেছিলেন বান্দোয়ানের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ কর মোদক। বাংলায় এমএ বিশ্বজিৎ তখন প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগের টেট-এ উত্তীর্ণ হয়ে প্যানেলের অপেক্ষায়। ও দিকে বিয়ে করেছেন, রোজগার চাই। একদিন টিভিতে শুনলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলছেন চপশিল্পের কথা। ২০২১-এর শেষের দিকে খুলেই ফেললেন দোকান। তার পরেও ২০২২-এ টেট-এ ফের উত্তীর্ণ হন। কিন্তু তত দিনে তাঁর চপের দোকান জমে গিয়েছে। সঙ্গী স্ত্রী। আর অন্য কিছু ভাবেননি বিশ্বজিৎ।

    বাবা-দাদা মিলে মিষ্টির দোকান চালান। বিশ্বজিতের ইচ্ছা ছিল চাকরি করার। সেই লক্ষ্যে মানবাজারের মানভূম কলেজে বাংলায় অনার্স নিয়ে পড়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১০-এ এমএ সম্পূর্ণ করেছেন। তাঁর কথায়, '২০১৪-তে টেট দিলাম, পাশও করলাম। ডিএলএডও করি। কিন্তু নিয়োগের খবর নেই।' | সেখান থেকে চপের দোকান? প্রশ্ন শুনে বিশ্বজিৎ বললেন, 'না, না। বান্দোয়ানেই কয়েক জন বন্ধু মিলে একটা নার্সারি স্কুল শুরু করেছিলাম। একইসঙ্গে পাই ভিলেজ রিসোর্স পার্সনের (ভিআরপি) কাজ, মাসে দিন সাতেক। পারিশ্রমিক ছিল রোজ ১৭৫ টাকা। এ ভাবে চলতে চলতেই কোভিড এসে পড়ল। সেই দিনগুলো পেরিয়ে আসার পরে চপের দোকান দিয়েছি।'

    বিশ্বজিৎ জানালেন, কোভিড অতিমারি পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পরে তিনি বিয়ে করেন। তখনই তাঁর বিকল্প রোজগারের ভাবনা শুরু। তাঁর কথায়, 'একদিন শুনলাম, মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, তেলেভাজা বেচেও আয় করা যায়। সেই সময়েই শুনলাম চপশিল্প শব্দটা। মনে ধরল। হাতে থাকা অল্প কিছু টাকা দিয়ে ২০২১-এর শেষের দিকে খুলে ফেললাম দোকান।' এখন সকালে দোকান, দুপুরের পরে ভিআরপি-র কাজ। চপ-তেলেভাজার পাশাপাশি রুটি-সবজি, মুড়ি-ঘুগনিও বিক্রি করেন। বিশ্বজিৎ এই দোকানের নাম রেখেছেন 'চপ শিল্প'। তাঁর বক্তব্য, 'আমার দোকান খোলার সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করেছিলাম বলে দোকানের নাম চপ শিল্প রেখেছি।'

    কিন্তু বিশ্বজিৎ যে এত দূর পড়াশোনা করে চপ বিক্রি করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রথু সিংহ বললেন, 'সদুপায়েই রোজগার করছে ছেলেটি। কিন্তু শিক্ষকতার চাকরি বিক্রি হলো, আর গ্রাম থেকে উঠে আসা একটা মাস্টার ডিগ্রি ছেলে প্রাথমিক শিক্ষকতার চাকরিও পেল না।' বান্দোয়ানের একটি মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি ধ্রুবপদ মাহাতোও বললেন, 'মনে রাখতে হবে, স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ এক যুবক শিক্ষকতার একটা চাকরিও পেলেন না। অথচ স্কুলগুলিতে শিক্ষকের অভাব। আসলে সেটা তো এই সরকারেরই লজ্জা।'

  • Link to this news (এই সময়)