• রাত ফুরোলেই মকর সংক্রান্তি, পুণ্যস্নানের জন্য ভিড় বাড়ছে সাগরে
    এই সময় | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, গঙ্গাসাগর: মকর সংক্রান্তির মাহেন্দ্রক্ষণের আগে গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কলকাতার বাবুঘাট থেকে কাকদ্বীপের লট নম্বর আট, সাগরমেলা স্পেশাল বাসের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কজুড়ে। কাকদ্বীপ এবং সাগরের কচুবেড়িয়া জেটিঘাটে মাথায় বোঁচকা, ব্যাগপত্র নিয়ে পুণ্যার্থীদের লম্বা লাইন। প্রবল শীতের সঙ্গে দীর্ঘ পথের ক্লান্তি উপেক্ষা করেই বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা দেহাতি মানুষ এগিয়ে চলেছেন পুণ্যস্নানের আশায়।

    এ বারের মেলায় পুণ্যার্থীদের পারাপারের জন্য মোট ২১টি জেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। বাবুঘাট থেকে লট নম্বর আট পর্যন্ত ৩৬০০টি বাস, কচুবেড়িয়া থেকে সাগর পর্যন্ত আরও ৩০০টি বাস চলাচল করছে। পাশাপাশি ১৩টি বার্জ, ৪৫টি ভেসেল এবং ১২০টি লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা পুণ্যার্থীরা প্রশাসনের ভূয়সী

    প্রশংসা করেন। ৫৪টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সাতটি অ্যাডভান্স টিম, ১৫টি অ্যান্টি-ক্রাইম প্যাট্রলিং টিম, ১৩টি মিসিং পার্সন স্কোয়াড, দু'টি কুইক রেসপন্স টিম, ১৬টি রিভার প্যাট্রলিং টিম এবং ২৮টি কো-অর্ডিনেশন টিম দিনরাত নজরদারি চালাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া পুণ্যার্থীদের খোঁজেও প্রশাসন তৎপর। এখনও পর্যন্ত মেলায় হারিয়ে যাওয়া ৮৪ জন তীর্থযাত্রীর মধ্যে ৮০ জনকে পরিজনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া গিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত দু'জন গুরুতর অসুস্থ তীর্থযাত্রীকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন উত্তরপ্রদেশের লখনৌয়ের বাসিন্দা শান্তলাল। অন্যজন হরিয়ানার ঝাজ্জর জেলার বাসিন্দা বিমলা দেবী।

    বিকেলে মেলা অফিসে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, গত পয়লা জানুয়ারি থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগর মেলায় এসেছেন। ইতিমধ্যেই মেলায় পৌঁছেছেন মন্ত্রী সুজিত বসু, মানস ভূঁইয়া, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, পুলক রায় ও বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।

  • Link to this news (এই সময়)