এই সময়, বাসন্তী: পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর এক পরিযায়ী শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হলো জঙ্গল থেকে। দিন ১৫ আগে মহারাষ্ট্রে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান বাসন্তী থানার সজনেতলা গ্রামের তরুণ মোরসেলিম সর্দার (১৮)। বাবা হাকিম সর্দার অসুস্থ হওয়ায় সংসার চালাতে একপ্রকার বাধ্য হয়ে সুন্দরবন এলাকা থেকে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর গ্রামের আরও কয়েকজনের সঙ্গে মহারাষ্ট্রে পাথর ভাঙার কাজে গিয়েছিল মোরসেলিম। পরিবারের অভিযোগ, দিন পাঁচেক ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। বারবার চেষ্টা করেও ফোনে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার।
ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল পরিবার। সঙ্গীরা মহারাষ্ট্রের স্থানীয় থানায় মোরসেলিমের নামে নিখোঁজের ডায়েরিও করেছিলেন। এর মধ্যেই সোমবার নির্জন জঙ্গলে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পাওয়া যায়। মহারাষ্ট্র পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
মহারাষ্ট্র থেকে ছেলের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে এলে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। মৃতের কাকা আমির আলি সর্দার বলেন, 'পেটের তাগিদে গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে মহারাষ্ট্রে পাথর ভাঙার কাজে গিয়েছিল ভাইপো। আমাদের ধারণা, ওকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে গাছে। আমরা চাই পুলিশ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করুক।'
এই মৃত্যু নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধীদের। বাসন্তীর তৃণমূল নেতা নুর এলাহি বলেন, 'বাংলাভাষী হওয়ায় বিজেপি রাজ্যে ছেলেটিকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হচ্ছে।' বিজেপি নেতা বিকাশ সর্দার বলেন, 'রাজ্যে কাজ নেই। তাই পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে তাদের বাইরের রাজ্যে কাজ করতে হচ্ছে। এই মৃত্যুর দায় রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে।'