• গঙ্গাসাগরে পুণ্যার্থীর জীবন বাঁচাবে ‘ওয়াটার ড্রোন’
    আজকাল | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: গঙ্গাসাগর মেলায় স্নানঘাটগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করতেও ব্যবহৃত হবে আধুনিক প্রযুক্তির ‘ওয়াটার ড্রোন’। প্রশাসন সূত্রের খবর, এই ‘লাইফবয় ওয়াটার ড্রোন’-এর মাধ্যমে স্নানে নেমে কেউ বিপদে পড়লে, দ্রুত উদ্ধার করা যাবে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের উদ্যোগে এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ড্রোনের সাহায্যে উদ্ধারকাজ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন আধিকারিকেরা।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ড্রোনটির ‘ট্রায়াল রান’ চলছে। ওয়াটার ড্রোনটি প্রায় এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কাজ করতে পারে। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭ মিটার গতিবেগে ছুটে গিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছতে সক্ষম এই ড্রোন। সর্বোচ্চ এক টন পর্যন্ত ওজন বহনের ক্ষমতা থাকায় একাধিক মানুষকে একই সঙ্গে উদ্ধার করা সম্ভব। উদ্ধারের কাজকে আরও নিখুঁত করতে ড্রোনটিতে রয়েছে ‘অনবোর্ড ক্যামেরা’ ও ‘রিয়েল-টাইম ভিডিয়ো ফিডব্যাক’ ব্যবস্থা। ফলে উদ্ধারকারীরা দূর থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ড্রোনটি পরিচালনা করতে পারবেন।

    আরও জানা গিয়েছে, রাতের অন্ধকার, কুয়াশা বা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধারকাজ চালানো অনেক সহজ হবে। এ ছাড়াও, ড্রোনটিতে রয়েছে জিপিএস-নির্ভর নেভিগেশন ব্যবস্থা। কোনও কারণে সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হলে বা ব্যাটারির চার্জ ১৫ শতাংশের নীচে নেমে গেলে ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে লঞ্চ পয়েন্টে ফিরে আসবে। এতে উদ্ধারকাজ চলাকালীন প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। 

    ‘ওয়াটার ড্রোন’-এর পরীক্ষা। নিজস্ব চিত্র।

    প্রশাসনের আধিকারিকেরা জানান, কপিলমুনি মন্দির সংলগ্ন স্নানঘাটগুলিতেও এই ওয়াটার ড্রোন মোতায়েন থাকবে। কোনও পুণ্যার্থী স্নানে নেমে তলিয়ে গেলে উদ্ধার কাজে এই ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হবে। প্রশাসনের অনুমান, এ বছর কুম্ভমেলা না থাকায় গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের ভিড় গত বছরের তুলনায় আরও বাড়তে পারে। সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি।

    জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলায় মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত ও কার্যকর ভাবে উদ্ধারকাজ করা যায়, সে কারণেই লাইফবয় ওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।” 

    দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অতিরিক্ত বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক নিশীথ ভাস্কর পাল বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলার আগে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সমস্ত প্রস্তুতির কাজ আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে যে সকল উদ্ধারকাজের জন্য ব্যবহৃত স্পিডবোট থেকে শুরু করে একাধিক জিনিস আমরা খতিয়ে দেখছি এবং মহড়া চালাচ্ছি। এর পাশাপাশি এ বছরের গঙ্গাসাগরের নতুন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দপ্তরের সংযোজন ‘ওয়াটার ড্রোন’। পরীক্ষামূলকভাবে সেই ওয়াটার ড্রোন আমরা ব্যবহার করলাম এবং দেখলাম কত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার কাজ করা যায়। এছাড়াও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দপ্তরের সমস্ত উদ্ধার কার্যের বিভাগ আমরা খতিয়ে দেখলাম। আগামী দিনেও বেশ কয়েকটা এই রকম মহড়া করা হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলায় যে কোনও অঘটন ঘটলে উদ্ধার কাজের জন্য সদা তৎপর রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য যেমন গঙ্গাসাগর মেলাকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলায় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে তেমনি পূর্ণ স্নানের সময় পুণ্যার্থীরা যদি কোন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় সেই দুর্ঘটনা থেকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য সদা তৎপর রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী।”
  • Link to this news (আজকাল)