SIR নয়, মুর্শিদাবাদের BLO আত্মঘাতী দেনার দায়ে, দাবি খোদ স্ত্রীর
আজ তক | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক হামিমুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় নয়া তথ্য। মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ, আর্থিক কারণে তাঁর স্বামীর উপর মানসিক চাপ ছিল। সেই কারণেই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুলেট খান নামে এক ব্যক্তি হামিদুলকে ফাঁসিয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও শনিবার রাতে স্কুল থেকে দেহ উদ্ধারের পর SIR-এর কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে হামিমুল মারা গিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমের একাংশ প্রকাশ করেছিল।
হামিমুলের পরিবারের দাবি, বুলেট খান নামে ওই ব্যক্তি একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে সার্ভিস অ্যাসোসিয়েট (বিএসএ) হিসেবে কাজ করত। ব্যাঙ্ক ঋণ সহজে দেওয়া হবে, এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলত। বুলেটের সহযোগী ছিলেন হামিদুল। তাঁকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হত। অভিযোগ, বুলেট হামিমুলের কাছ থেকে মোট ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
বুলেটকে টাকা দিতে ধার করেছিলেন হামিমুল। নিজের সঞ্চয় তো ভেঙেছিলেনই সঙ্গে পরিবারের অনেকের কাছ থেকে ঋণও নিয়েছিলেন। এরপর হামিমুল যখন বুলেটের কাছে টাকা ধার চান সে দিতে অস্বীকার করে। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকে। তাতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন হামিমুল। তাঁকে বুলেট প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ।
হামিমুলের পরিবারের আরও অভিযোগ, ক্রমাগত আর্থিক চাপ, হুমকি এবং মানসিক যন্ত্রণার কারণে হামিমুল ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর সম্মানহানি হচ্ছিল। রাস্তাঘাটে অপমানিত হচ্ছিলেন। সেই কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত বুলেট খান ফুলপুর এলাকার বাসিন্দা। বিয়ের পর থেকে তিনি আলাইপুর এলাকায় থাকেন। পুলিশ এখনও হামিমুল ইসলামের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে পারেনি। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই ডিভাইস থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হাতে আসবে। মৃতের স্ত্রীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বুলেট খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।