নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গঙ্গাসাগর মেলা এখন গোটা বিশ্বের কাছে অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে ও পুণ্যস্নানের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ও দেশের নানা স্থান থেকে পুণ্যার্থীরা আসেন প্রতি বছর। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। যত দিন যাচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসাহ বাড়ছে সাধারণ মানুষদের মধ্যে। সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত পরিষেবা, রাস্তা-ঘাট, কঠোর নজরদারি, সবটাতেই জোর দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। যার ফলে এই মেলার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে দিকে দিকে।আজ, মঙ্গলবার গঙ্গাসাগরে আগত সকল পুণ্যার্থীকে শুভেচ্ছ জানিয়ে, এমনটাই মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে তিনি এই বিষয়ে লেখেন, ‘আমাদের সরকার গঙ্গাসাগর মেলাকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। আগের সরকার এখানে তীর্থযাত্রীদের উপর যে ‘তীর্থ কর’ চাপিয়ে রেখেছিল, আমরা এসেই তা তুলে দিই। মেলায় যেতে এখন আর কোনও কর দিতে হয় না। তার উপর পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কপিল মুনির আশ্রমসহ মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো থেকে রাস্তাঘাট, যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বাস-ভেসেল-লঞ্চ-জেটি নদীপথ ড্রেজিং, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা, আলোকসজ্জা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, হাসপাতাল-ডাক্তার-নার্স- অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের থাকার জায়গা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নানাবিধ কাজ, জরুরি ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার পরিষেবা, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা — সবই করা হয়েছে।’ এমনটাই বলেন মুখ্যমন্ত্রী।তারপরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আশা রাখি, এই গুরুত্বপূর্ণ মেলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নিদারুণ অবহেলা ও অমনোযোগের একদিন অবসান ঘটবে।’ কুম্ভ মেলায় কেন্দ্রের বিপুল বরাদ্দ থাকে। কিন্তু গঙ্গাসাগর আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে গেলেও কেন্দ্র কোনও বরাদ্দ বা সাহায্য করে না বলেই বারবার ক্ষোভপ্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।