সন্দীপ ঘোষ চৌধুরী: রাজ্যে ফের থাবা বসালো মারণ ‘নিপা’ ভাইরাস। এক তরুণী নার্স এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলতেই মঙ্গলবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কাটোয়ায়। সংক্রমণ যাতে কোনওভাবে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর। মঙ্গলবার সকালেই আক্রান্ত নার্সের বাড়িটি সাময়িকভাবে বন্ধ বা ‘সিল’ করে দেওয়া হয়েছে।
নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থার খোঁজ খবর নিচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতের স্বাস্থ্য প্রতিনিধিরা যৌথভাবে ওই এলাকায় পৌঁছান। সংক্রমণ রুখতে আক্রান্ত নার্সের বাড়ির চারপাশ এবং সংলগ্ন এলাকা শক্তিশালী জীবাণুনাশক দিয়ে স্যানিটাইজ করা হয়। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, এই ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। আক্রান্তের সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের চোখেমুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "খুব ভয়ের মধ্যে দিন কাটছে। যদিও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে, কিন্তু আমাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।" পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানালেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আরও বেশি প্রচারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং তাঁদের আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিপা ভাইরাস: আতঙ্ক নয়, সতর্ক হোন (স্বাস্থ্য দপ্তর কর্তৃক জনস্বার্থে প্রচারিত)
নিপা একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং মারাত্মক ভাইরাস, যা মূলত বাদুড় বা শূকরের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সঠিক সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে এই মারণ রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
কিভাবে ছড়ায়?
সংক্রামিত বাদুড়ের কামড়ানো ফল (যেমন: পেয়ারা, আম, লিচু) খেলে।
বাদুড়ের লালা বা মূত্র মিশ্রিত কাঁচা খেজুরের রস পান করলে।
আক্রান্ত পশু (মূলত শূকর) বা মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে এলে।
প্রধান লক্ষণসমূহ:
তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা।
শ্বাসকষ্ট এবং কাশি।
মাংসপেশিতে ব্যথা ও বমি বমি ভাব।
তীব্র তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব বা মানসিক বিভ্রান্তি।
গুরুতর অবস্থায় এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) বা খিঁচুনি।
বাঁচার উপায় ও করণীয়:
ফল খাওয়ার সতর্কতা: গাছ থেকে পড়া বা পাখির কামড়ানো কোনো ফল খাবেন না। যেকোনো ফল খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে ও খোসা ছাড়িয়ে খান।
রসের ক্ষেত্রে সাবধান: শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে বিরত থাকুন। রস ফুটিয়ে খাওয়া নিরাপদ।
সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন: আক্রান্ত ব্যক্তির সেবা করার সময় মাস্ক এবং গ্লাভস ব্যবহার করুন। কাজ শেষে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।
দ্রুত চিকিৎসা: উপরোক্ত কোনো লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।