সন্দীপ ঘোষ চৌধুরী: সিগন্যাল ফেলিওরে অচল কাটোয়া জংশন, একাধিক রুটে ট্রেন বিপর্যস্ত- ভোগান্তিতে হাজারও যাত্রী। পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন কাটোয়ায় সিগন্যালের যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে ট্রেন চলাচল। বিষয়টি শুধু কাটোয়া–বর্ধমান শাখাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং কাটোয়া জংশন থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রুটেই এর প্রভাব পড়ে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া জংশন স্টেশনের ৭ নম্বর প্লাটফর্ম সংলগ্ন সিগন্যালের জয়েন্ট বক্সে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটে। এর জেরে কাটোয়া–বর্ধমান, কাটোয়া–আহমদপুর, কাটোয়া–আজিমগঞ্জ এবং কাটোয়া–ব্যান্ডেল রুটে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একাধিক ট্রেন দেরিতে চলে, আবার কিছু ট্রেন মাঝপথে দাঁড়িয়ে পড়ে বা বাতিল হয় বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
কাটোয়া জংশন পূর্ব বর্ধমান ও আশপাশের একাধিক জেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ কেন্দ্র। প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে হাজার হাজার নিত্যযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মানুষ এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা যাতায়াত করেন। ফলে সিগন্যাল ফেলিওরের প্রভাব পড়ে বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। দীর্ঘক্ষণ প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ট্রেনের অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের, যার ফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্যার কথা জানা মাত্রই মেরামতির কাজ শুরু করা হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার জেরে ফের একবার কাটোয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশনে সিগন্যাল ও রেল পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি হলে তার দ্রুত এবং স্থায়ী সমাধান জরুরি, নচেৎ বারবার এ ধরনের বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষকেই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হবে।