অর্কদীপ্ত মুখার্জি: বাংলায় SIR-এর শেষ পর্যায়ে এসে 'ভয়ংকর বিপত্তি'! এমনটা যে হতে পারে বা ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি! বিপত্তি ঘটেছে খোদ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে... এদিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন প্রায় আসন্ন। SIR হিয়ারিং প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
কী ঘটেছে?
এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তা ঘিরেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ফেসবুক পোস্টে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নম্বর প্রকাশ করে এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়।
আর এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক একাধিক ফোন-কল ও অবাঞ্ছিত মেসেজে বার্তা পাচ্ছেন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এতে তাঁর দফতরের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও লঙ্ঘিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এই ঘটনাটি নিয়ে পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
SIR নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশ
ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় কমিশনের কাজের ধরন ও স্বচ্ছতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার নির্বাচন কমিশনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিশনকে সমস্ত অভিযোগের লিখিত জবাব দিতে হবে। আগামী ১৯ জানুয়ারি, সোমবার, SIR মামলার পরবর্তী শুনানি। এখন নির্বাচন কমিশন তাদের কাজের স্বপক্ষে কী ব্যাখ্যা দেয় ও সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূলের অভিযোগ, "বাংলায় অদ্ভুত উপায়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। কোনও লিখিত নির্দেশ নেই, অথচ হোয়াটসঅ্যাপে নাম পাঠানো হচ্ছে এবং সেই ভিত্তিতে নোটিস জারি হচ্ছে। ইলজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা অযৌক্তিক অসঙ্গতির অজুহাতে প্রায় ১ কোটি ৩২ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।"
অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জবাব দেওয়ার জন্য ২ সপ্তাহ সময় চাইলেও শীর্ষ আদালত তা মঞ্জুর করেনি। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে মাত্র এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, যদি বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম সত্যিই নিয়মবহির্ভূতভাবে বাদ পড়ে থাকে, তবে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অবশ্যই বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াবে।