অয়ন ঘোষাল: বিস্ফোরক সুকান্ত মজুমদার। প্ল্যান করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে তৃণমূলের সুপ্রিমো পদে বসানোর পরিকল্পনা চলছে! এমনটাই দাবি করলেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। একইসঙ্গে গঙ্গাসাগর থেকে বাবুঘাট, বিবিধ ইস্যুতে রাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকার ও শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। বলাই বাহুল্য যে, ছাব্বিশের ভোট ঘিরে রাজনৈতিক তরজার ক্রমশ পারদ চড়ছে। হাইভোল্টেজ নির্বাচন ঘিরে যুযুধান দুই পক্ষ, একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে ব্যস্ত।
'গঙ্গাসাগর পরিদর্শন'
সুকান্ত মজুমদার: মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবারই এই কাজ করেন। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী নিজের মুখ ছাড়া পোস্টারে অন্য কারও মুখ দেখতে দেন না, বা নিজেও পছন্দ করেন না। উনি এবং উনার ভাইপোর মুখ ছাড়া কিছুই থাকে না। মুখ্যমন্ত্রী অবাস্তব দাবি করেন, ব্রিজ বানিয়ে দেবেন! গতকাল দাবি করেছেন ৪৫ লক্ষ লোক এসেছে। যদিও এখনও আমাদের কাছে আপডেট ৩০ হাজার ভেসেল টিকিট বিক্রি হয়েছে। তাহলে ৪৪ লক্ষ ৭০ হাজার লোক নদীর এপার থেকে ওপার শক্তিমানের মত উড়ে উড়ে গেছে কিনা আমার জানা নেই। আমরা তো নতুন না, প্রতিবারই আমরা যাই। গতবারও আমি গিয়ে স্নান করে এসেছি, ওখানে ডুব দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী ওখানে যান বিজ্ঞাপনের জন্য, যান চলে আসেন। স্নান-টান করেন না। আমি গতবারেও স্নান করেছি, তার আগেও স্নান করেছি, এটা হিন্দু সংস্কৃতি, ভারতীয় সংস্কৃতি। গঙ্গাসাগর মেলার উপর কত সাহিত্য রচনা হয়েছে। বাঙালিকে তো গঙ্গাসাগর ছাড়া ভাবা যায় না। এখন বাংলাদেশের মতো বাঙালি হলে পৌষ পার্বণেও হারাম হয়ে যায়। আমরা সেই বাঙালিত্বে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি, যে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ।
'বাবুঘাটে পরিকাঠামোর অভাব'
সুকান্ত মজুমদার: বিগত বেশ কয়েকবার বাবুঘাটে গিয়েছিলাম এবারে আমার যাওয়ার সময় হয়নি। প্রতিবারই গিয়ে দেখেছি প্রচুর অব্যবস্থা থাকে। বিহার, উত্তর প্রদেশ থেকে প্রচুর সাধু-সন্তরা আসেন। এখানে এসে তাঁরা বাধ্য হন একপ্রকার এখানে থাকতে। আমরা বরাবর দাবি তুলেছি একটা গঙ্গাসাগর হাউস করার, যেখানে এসে এই পুণ্যার্থীরা থাকতে পারবেন। মাথার উপর ছাদ পাবেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই রাজ্যে হজ হাউজ করা যতটা সহজ, যতটা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন পাওয়া যায়, গঙ্গাসাগর হাউসের ক্ষেত্রে ততটা সমর্থন বা ততটা উদ্যোগ পাওয়া যায় না।
'ডায়মন্ড হারবার রোডে অভিষেকের কাটআউট, বিবেকানন্দের বাড়িতে যুবরাজের কাটআউট! বিতর্ক...'
সুকান্ত মজুমদার: ওই যে যুবরাজ বলছেন না, এখন বাংলার মসনদে ভাইপোকে বসানোর সমস্ত রকম প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই প্রচেষ্টাগুলো গভীর চিন্তাভাবনার সঙ্গে হচ্ছে। আমার মনে হয়, ইডির অফিসে অতর্কিতে হামলা এটাও এই প্ল্যানের অংশ নয় তো? যে আদালত একটা অন্যরকম রায় দিতে পারে তাই মেনে নাও অভিষেককে! এটা দলের পুরনো (যারা অভিষেককে মানতে চায় না) তাদেরকে বাধ্য করার পরিকল্পনা হতে পারে।
'ইডির জোড়া মামলা সুপ্রিম কোর্টে! অভিষেকের অভিযোগ, পেগাশাসের নজরদারি'
সুকান্ত মজুমদার: ইডি মুখ্যমন্ত্রী সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডিজি ছিলেন এবং নন্দিনী চক্রবর্তীও সম্ভবত ছিলেন। এনারা কিন্তু থ্রেট দিয়ে ওসব জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন। কাজেই এটাকে আইনের ভাষায় তো ডাকাতি বলে! পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে এতদিন পর্যন্ত সবাই 'চোর, চোর' বলতেন! এখন প্রমোশন পেয়েছেন, সংক্রান্তির আগে তিনি ডাকাত হয়েছেন। এর আগে আমরা ডাকাত-রানি বলতাম। এখন ভারতবর্ষের একটি সংস্থা বলছে ডাকাত। এবার আদালতে যাচ্ছে বিষয়টা, আদালত বিচার করবে; আদালতের উপর বিশ্বাস আছে। ইডির বিরুদ্ধে যে এফআইআর হয়েছে তাতে স্থগিতাদেশের আবেদন জানিয়েছে। কারণ এটা তো হওয়ারই কথা। তাহলে ইডি কোথাও গিয়ে তদন্ত করবে কীভাবে? তাহলে ইডি, সিবিআই তুলে দেওয়া উচিত। রাজ্যের পুলিস যা ইচ্ছা তাই করবে। কয়লা পাচার করবে, পুলিসের গাড়িতে করে কয়লা পাচার করে টাকা পৌঁছে দেবে ভাইপোর কাছে!
'মুখ্যমন্ত্রীর জ্ঞানেশ কুমারকে পঞ্চম চিঠি'
সুকান্ত মজুমদার: এসআইআর-এর সব অভিযোগ ওয়াইল্ড অ্যালিগেশন। কোনও সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। তৃণমূল কংগ্রেস যে ভূতেদের Ramp ওয়াক করাল, তা কতটা বেসলেস! ২৪ লক্ষের মধ্যে মাত্র তিন জনকে হাজির করেছে। কিছু বিএলও এবং এএইআরও তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হিয়ারিং-এর সময় সমস্যা করার চেষ্টা করছে। আমাদের কাছে খবর আছে, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা যাতে এসআইআর-এ হ্যারাসমেন্ট করছে এটা এস্টাবলিশ করা যায়। এই যে ২৬ হাজার লোকের চাকরি চলে গেল, তাতে মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে না? রেশনের দোকানে লাইন ভোটের দোকানে লাইন, তাতে হেনস্তা হতে হয় না? কিছু তো সময় ব্যয় করতে হবে। মহম্মদ শামির নাম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি তো উত্তরপ্রদেশের লোক। শাগ দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। ২০০২-এ নিশ্চয়ই তাঁর নাম বা বাবার নাম কিছু ছিল না।
'এসআইএর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি'
সুকান্ত মজুমদার: এসআইআর মামলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন। যে ৪৮ লক্ষ নাম বাদ গেছে তার মধ্যে মৃত এবং শিফটেড ভোটার। তাতেই দেখা যাচ্ছে একশোর বেশি সিটে তৃণমূল কংগ্রেসের জেতার যে মার্জিন তার থেকেও বেশি ভোটার বাদ চলে গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পাচ্ছেন। কারণ তিনি তো জানেন না, তার চেলা চামুন্ডারা কতটা ছাপ্পা মেরেছে। উনি ভয় পাচ্ছেন যদি সবই ছাপ্পা মেরে থাকে, তাহলে বুঝতে পারছেন তো যে মানুষের রায় উল্টোদিকে ছিল! মুখ্যমন্ত্রী তাহলে এবার হেরে যাচ্ছেন! তিনি আর মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন না!
'শুভেন্দুর কনভয়ে হামলা! আপনাদেরও কনভয়ে যেতে হয়, কতটা উদ্বিগ্ন? বিশিষ্টজনেরা প্রার্থী হতে চাইছেন না বিজেপির এই কারণে!'
সুকান্ত মজুমদার: ভয়ের পরিবেশ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে কাম্য নয় কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এখানে হয়েছে সেটা। এই পরিস্থিতি থেকে আমাদের বাইরে বেরোতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কিছু জনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নচেৎ এটা বন্ধ হবে না। কিছু অফিসারের বিরুদ্ধেও স্টেপ নিতে হবে। একজন ডিএম তার এলাকায় কিছু গুন্ডা নিয়ে এসে গুন্ডারাজ করে যাবেন আর তিনি বলবেন, কিছু জানি না! জেলাশাসক বা জেলা পুলিস সুপারকে দায়িত্ব নিতে হবে।
'নিপা নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন?'
সুকান্ত মজুমদার: দেখুন আমরা অত্যন্ত চিন্তিত এবং আমরা মনে করি রাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা চাওয়া। বিশিষ্ট যারা চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ আছেন, জীবাণু বিশেষজ্ঞের টিমকে কেন্দ্রীয় গবেষণাগার থেকে সেই বিজ্ঞানীদেরকে উচিত ডেকে পাঠানো রাজ্য সরকারের। কেন্দ্র-রাজ্য টিম তৈরি করে ইমিডিয়েট ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে বাংলার মানুষের প্রাণ না যায়।