আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে চলছে এসআইআর শুনানি পর্ব। ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটারদের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার (এসআইআর) শুনানির জন্য কোনও কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
অসুস্থ এবং বিশেষভাবে সক্ষমদেরও শুনানির ব্যবস্থা তাঁদের বাড়িতেই করা হবে। গত ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আধিকারিকদের এই মর্মে নির্দেশ দেওয়ার পরও শুনানিকে কেন্দ্র করে অশক্ত এবং বৃদ্ধ মানুষদের হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না।
এবার এসআইআর-এর শুনানির জন্য ১০৪ বছরের এক বৃদ্ধ এবং হাসপাতালে থেকে ছুটি নিয়ে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদে বড়ঞাঁ ব্লকের ডাকবাংলো কৃষক বাজার শুনানি কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ শুনানিতে হাজিরা দিলেন।
মঙ্গলবার নাতি এবং পরিবারের অন্য কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে বড়ঞাঁ কৃষক বাজারে শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী মানোয়ারা বিবি।
বয়সজনিত কারণে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত প্রায় সাত দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এসআইআর-এর শুনানির জন্য ডাক পড়ায় তড়িঘড়ি তাঁর বাড়ির লোক তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি করিয়ে মঙ্গলবার শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
মানোয়ারা বিবির নাতি আলাউদ্দিন শেখ বলেন, "আমার ঠাকুমা গত বেশ কিছুদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। কিন্তু এরই মধ্যে তাঁকে এসআইআর-এর শুনানির জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ থাকলেও তাঁদের কোনও আধিকারিক ঠাকুমার এসআইআর-এর শুনানির জন্য আমাদের বাড়িতে যায়নি বা আমাদেরকে শুনানি কেন্দ্রে আসতে হবে না এমন নির্দেশিকাও দেয়নি। তার ফলে অসুস্থ ঠাকুমাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি করিয়ে আমরা আজ শুনানির জন্য নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।"
তিনি বলেন, "অসুস্থতার কারণে আমার ঠাকুমার পক্ষে একা হাঁটাহাঁটি করা একপ্রকার অসম্ভব। ঠাকুমাকে দু-তিনজন মিলে ধরে হাঁটাতে হয়। টোটো ভাড়া করে আমরা ঠাকুমাকে নিয়ে আজ এসআইআর-এর শুনানির জন্য এসেছি।"
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আজ ওই শুনানি কেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বড়ঞাঁর বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ১০৪ বছরের হারু শেখ।
সূত্রের খবর, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় ওই ব্যক্তির নাম হারু বলে উল্লেখ ছিল। কোনও পদবি উল্লেখ করা ছিল না। সেই কারণে তাঁকে শুনানির জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে।
হারু শেখের ভাইপো আজমির শেখ বলেন,"আমার কাকার বয়স ১০৪ বছর পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নামের একটি ছোট ভুল থাকার জন্য তাঁকে নোটিস দিয়ে শুনানির জন্য ডেকে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।"
তিনি অভিযোগ করেন,"আমার কাকার বয়স ১০৪ বছর জানার পরও নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে কেউ আমাদের বাড়িতে শুনানির জন্য যায়নি। খুব অসুবিধা হলেও দু'তিনজন মিলে কাকাকে ধরাধরি করে টোটোতে বসিয়ে শুনানির জন্য নিয়ে এসেছি।"
শুনানি কেন্দ্রে হাজির ইউসুফ আলি নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,"বৃদ্ধ ও অশক্ত এবং শতায়ু পার করা যে সমস্ত মানুষদের নির্বাচন কমিশন ডাকবাংলো কৃষক বাজারে শুনানিতে ডেকে পাঠিয়েছে তাঁদের অনেকেরই বাড়ি এই কেন্দ্র থেকে ১২-১৩ কিলোমিটার দূরে। টোটো করে তাঁদের এত দূরে আসা অত্যন্ত কষ্টকর জানার পরও নির্বাচন কমিশন তাঁদের জন্য বিকল্প কোনও ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত করে উঠতে পারেনি।"
শতায়ু পার করা প্রবীণদের নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দিতে হওয়ার এই ঘটনার নিন্দা করে তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন,"বৃদ্ধ , অশক্ত যে সমস্ত মানুষদের নির্বাচন কমিশন শুনানির জন্য ডেকে পাঠাচ্ছে তাঁরা বছরের পর বছর একই এলাকায় বাস করছেন। যেভাবে নির্বাচন কমিশন বৃদ্ধ, অসুস্থ এবং শতায়ু পার করা মানুষদেরকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করছে তার নিন্দার ভাষা নেই। বিজেপি বাংলা দখল করতে না পেরে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বাংলার মানুষের উপর তার বদলা নিচ্ছে।"