• আসানসোলে অবৈধ কয়লা খনি ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু, ভিতরে আটকে অনেকেই
    আজ তক | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • আসানসোলে ফের মর্মান্তিক খনি দুর্ঘটনা। অবৈধ কয়লা খনি ধসে প্রাণ হারালেন অন্তত দু’জন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আরও দু’জন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও এক,দু’জন আটকে থাকতে পারেন।

    মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটি থানা এলাকার বাদিরা অঞ্চলে বিসিসিএলের (BCCL) একটি পরিত্যক্ত খোলা কয়লা খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, অবৈধভাবে কয়লা তোলার সময় খনির ভিতরে তৈরি একটি সুড়ঙ্গ আচমকাই ধসে পড়ে। সেই সময় খনির ভিতরে পাঁচ থেকে ছ’জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

    প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকারীরা চারজনকে খনির ভিতর থেকে বের করতে সক্ষম হন। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। বাকি দু’জন গুরুতর আহত অবস্থায় আসানসোল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও এক বা দুইজন আটকে থাকতে পারেন। তাঁদের উদ্ধারে পোক্লেইন মেশিন ব্যবহার করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চলছে।

    দুর্ঘটনার পর উত্তেজনা
    দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। নিহত ও নিখোঁজদের পরিবার-পরিজনেরা ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, কয়লা মাফিয়ার সঙ্গে যুক্ত কিছু লোক তাঁদের এলাকা ছেড়ে যেতে চাপ দিচ্ছে। তবুও প্রিয়জনদের এক ঝলক দেখার আশায় তাঁরা ঘটনাস্থল ছাড়ছেন না।

    পুরনো খনি, নতুন প্রশ্ন
    স্থানীয়দের দাবি, এই বাদিরা এলাকার খনিতে আগেও একাধিকবার ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবুও অবৈধ কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়নি। অভিযোগ, প্রতিদিন তিন থেকে চার ট্রাক কয়লা অবৈধভাবে তুলে আশপাশের চুল্লিতে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় আবারও খনি নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং কয়লা মাফিয়ার সক্রিয়তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিপুল পুলিশ বাহিনী ও সিআইএসএফ মোতায়েন করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক তরজা
    ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার অভিযোগ করেন, সকালে বিসিসিএল সীমান্ত এলাকায় ভূমিধসের সময় গ্রামবাসীরা র‍্যাট-হোল খনির মাধ্যমে কয়লা তুলছিলেন। তাঁর দাবি, মোট পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সরাসরি কয়লা সিন্ডিকেট, মাফিয়া এবং প্রশাসনিক যোগসাজশের অভিযোগ তোলেন।

    অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন কুলটি ব্লক যুব সভাপতি শুভাশিস মুখোপাধ্যায় জানান, এটি একটি বহুদিন পরিত্যক্ত খনি। অবৈধ খনন রুখতে ব্যারিকেড ও বেড়া দেওয়া হলেও কিছু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৩০০-৪০০ ফুট নীচে নেমেছিলেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে বলে তিনি জানান।

    প্রাক্তন ওয়ার্ড কাউন্সিলর অশোক কুমার পাসওয়ান জানান, প্রাথমিকভাবে দু’জনকে সচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিতরে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
     

     
  • Link to this news (আজ তক)