অর্ণবাংশু নিয়োগী: রাজ্য রাজনীতিতে গত কয়েকদিন ধরে চলা সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে ইডি হামলায় এবার নাটকীয় মোড়। আইনি যুদ্ধে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর দফতর এবং তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তল্লাশিকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার জল শেষ পর্যন্ত গড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। শনিবার সুপ্রিম কোর্টে (ED in Supreme Court) ক্যাভিয়েট (Caveat) দাখিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (WB Govt)। উদ্দেশ্য স্পষ্ট- ইডি যদি সুপ্রিম কোর্টে কোনও বিশেষ আবেদন জানায়, তবে রাজ্য সরকারের বক্তব্য না শুনে যেন কোনও একতরফা নির্দেশ জারি না করা হয়। I-PAC অফিসে তল্লাশি ঘিরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং রাজ্য সরকারের সংঘাতের আইনি লড়াইয়ে এবার নাটকীয় মোড়। আইপ্যাক শুনানি মুলতুবি। এজলাসে অসংখ্য আইনজীবী। জানা গিয়েছে, ভর্তি এজলাস। শুনানি শুরুতে সমস্যা। আদালতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরক্ত হয়ে এজলাসে ছাড়েন বিচারপতি। এই কারণে মামলা মুলতুবি। আগামী ১৪ জানুয়ারি শুনানি হবে।
কী ঘটে আদালতে:
তৃণমূল দায়ের করা মামলা এবং ইডির দায়ের করা মামলা- জোড়া মামলার শুনানির কথা ছিল শুক্রবার দুপুর ২.৩০টে। কিন্তু এজলাস বসার আগেই দুপুর ২.০০টো থেকেই আদালতে ভিড় জমতে শুরু করে। রাজ্য সরকার ভার্সেস ইডির সংঘাতের আঁচে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আদালতও। এজলাস শুরুর আগে থেকে আদালতে আইনজীবীরা ভিড় করতে শুরু করেন। মামলা শোনার জন্য জুনিয়র-সিনিয়র আইনজীবীরা ভিড় করেছিলেন আদালতে। এমনকী শুনানি শুনতে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের আইনজীবীরা।
আদালতে এমন এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, কোনও পক্ষই ঠিকমত সওয়াল শোনাই যাচ্ছিল না। আদালতের ভিতরে একাধিক ব্যক্তির আওয়াজের জন্য কারোর কথাই স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না। বিচারপতি বিরক্ত হয়ে আদালতে ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তী শুনানির জন্য় ১৪ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করা হয়।
এরপরই ইডির তরফ থেকে মেইল পাঠানো হয়। আজই দ্রুত শুনানির আবেদন এবং বিচারপতি বদলের আবেদন নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে ই-মেল পাঠায় ED।
আগামীকাল অর্থাত্ ১৪ জানিয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে Ipac মামলার সময় মামলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আইনজীবী ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবেন না। কঠোর নির্দেশ আদালতে।
সূত্র মারফত্ জানা গিয়েছে Ipac মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের শুনানির আগেই আইনি পরামর্শ রাজ্যের। এজির (Advocate General) সঙ্গে কথা বলতে এলেন অতিরিক্ত সিপি ১ এবং বিধান নগর পুলিশ কমিশনার। দুটি কমিশনারেট এফ আই আর দায়ের হয়েছে, তাই আইনি পরামর্শ।
প্রসঙ্গত, ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের দুটি অফিসে হানা দেয় ইডি। বাদ যায়নি লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িও, যা কয়লা চুরির মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের তদন্তের অংশ। খবর পেয়েই প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর চলে যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে। এরপর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরেই সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেখানে কিছু ডকুমেন্টস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বেরিয়ে আসেন মমতা। ইডি এই ঘটনাকে তদন্তে বাধা এবং প্রমাণ সরানোর অভিযোগ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে, যাতে মুখ্যমন্ত্রীকে যুক্ত করে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানানো হয়। ইডির দাবি, মমতা পুলিসের সাহায্যে জোর করে ডিজিটাল ডিভাইস এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে গিয়েছেন, যা পিএমএলএ আইন লঙ্ঘন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে, অভিযোগ করে যে ইডি অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দলের নির্বাচনী তথ্য লুট করার চেষ্টা। প্রতীক জৈনের পরিবারও ইডির বিরুদ্ধে চুরি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিসে FIR করেছে।