• মকরের ভোরে মনস্কামনা পূরণে নদীর মাটি তুলসী মন্দিরে দেন ভক্তরা
    এই সময় | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • সোমনাথ মাইতি, পটাশপুর

    মকর সংক্রান্তির ভোরে মনস্কামনা পূরণে আজও কেলেঘাই নদীতে ডুব দিয়ে তুলে আনা মাটি তুলসী মন্দিরে দেন ভক্তরা। লোকবিশ্বাস, নদীতে ডুব দিয়ে তুলে আনা মাটি গোকুলানন্দ বাবাজির সমাধিক্ষেত্রে বা তুলসী মন্দিরে দিতে পারলে চর্মরোগ, গোদের মতো নানা রোগ-ব্যাধি ভালো হয়ে যায়। এই বিশ্বাসে ভর করে পৌষ সংক্রান্তির ভোরে পটাশপুর, সবং, ময়না, জঙ্গলমহল সমেত অবিভক্ত মেদিনীপুরের নানা জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান তুলসীচারার মেলায়। পটাশপুর ও সবংয়ের মধ্যে বয়ে চলা কেলেঘাই নদীর মজে যাওয়া নদীচরে বসে ১২ দিনের এই মেলা।

    ওম্যালি সাহেবের মেদিনীপুর গেজেটিয়ার্সেও তুলসীচারার মেলার উল্লেখ রয়েছে। তিনি লিখেছেন, তুলসীচারার মেলা নামে একটি ধর্মীয় মেলা অনুষ্ঠিত হয় প্রতি বছর। ভক্তরা গোকুলানন্দ দেবতার কাছে পুজো দেওয়ার জন্য ভিড় জমান এই মেলায়। পটাশপুরের প্রবীণ বাসিন্দা সোমনাথ দাস অধিকারী বলেন, 'গোকুলানন্দ হালিশহর থেকে সংস্কৃত শিক্ষালাভের পরে বৈষ্ণব সাধক রামানন্দ বাবাজির কাছে দীক্ষাগ্রহণ করে বৈষ্ণব সাধনা শুরু করেন।

    সবংয়ের কোলন্দা গ্রামের জমিদার পরমানন্দ ভূঁইয়ার ছেলে বিপ্রদাস ভূঁইয়া শিষ্যত্ব গ্রহণের পরে গুরু গোকুলানন্দকে বসবাসের জন্যে জমি দেন। কিন্তু সেখানে কিছু দিন বসবাসের পরে তিনি পটাশপুরের গোকুলপুরে তাঁর পৈতৃক ভিটেতে চলে আসেন। সেখানে সাধনা করতে করতে তিনি সমাধিপ্রাপ্ত হন। তিনি যে তুলসী মঞ্চের নীচে বসে সাধনা করতেন, সেই মঞ্চ বা তুলসী মন্দিরে পুজো দিতে আজও ভিড় জমান ভক্তরা।' স্থানীয় বাসিন্দা কল্যাণ আচার্য বলেন, 'বিশ্বাসে ভর করে তুলসীচারার মেলায় ছুটে আসেন বহু জন। আমাদের ছোটবেলা থেকেই এই মেলা দেখে আসছি।'

    স্থানীয়দের দাবি, আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও এই মেলা এখনও গ্রামীণ সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে। মেলাতে খোলের মতো বাদ্যযন্ত্র সমেত গ্রামীণ মানুষজনের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র আজও বিক্রি হয়। বসে পাখির মেলা। তবে বনদপ্তরের কড়া নজরদারির কারণে এখন মেলায় পাখি বিক্রি প্রায় বন্ধ বললেই চলে। বনদপ্তরের কাঁথি রেঞ্জ অফিসার অতুলপ্রসাদ দে বলেন, 'দিঘা-জুনপুটের বিভিন্ন মেলায় পাখি ও অন্য জীবজন্তুর কেনাবেচায় কড়া নজরদারি চালাবে বনদপ্তর।'

  • Link to this news (এই সময়)