সিন্দুরের পরেও জঙ্গি মদত কর্মসূচি বন্ধ করেনি পাকিস্তান: সেনাপ্রধান
বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আবার ভারতে অনুপ্রবেশ করে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তানের জঙ্গি বাহিনী। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা এবং ভারত পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় একাধিক স্থানে কমপক্ষে ৮টি জঙ্গি শিবির সক্রিয় হয়ে রয়েছে এই মুহূর্তে। আর ভারতে হামলার জন্য সেই ৮টি জঙ্গি শিবিরে অন্তত ১৫০ জন জঙ্গি তৈরি রয়েছে। সীমান্ত টপকে চলে আসছে পাক ড্রোন। উপত্যকায় উদ্ধার হয়েছে বিপুল অস্ত্র। পরিস্থিতি যে যথেষ্ট উদ্বেগজনক তার প্রমাণ হল, পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে এরকম প্রতিটি রাজ্যে মোতায়েন থাকা বিএসএফকে সতর্ক করা হয়েছে। হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। এহেন শঙ্কার তথ্য মঙ্গলবার দিয়েছেন স্বয়ং ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি বলেছেন, অপারেশন সিন্দুর এবং তৎপরবর্তী অঘোষিত যুদ্ধের পরও পাকিস্তানের ভারত বিরোধী জঙ্গি মদত কর্মসূচি বন্ধ হয়নি। পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সেনাপ্রধান বলেছেন, আমাদের অপারেশন সিন্দুরও কিন্তু বন্ধ হয়নি। শুধু স্থগিত রয়েছে। কোনোরকম অভিযানের চেষ্টা যদি পাকিস্তান করে, তাহলে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। ঠিক ১০ মাস আগেই কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বইসরণ উপতক্যায় নিরীহ পর্যটকদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট ঘাতক বাহিনী। ভারতীয় সেনা প্রত্যাঘাত করে অপারেশন সিন্দুরে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা ৯টি জঙ্গি শিবির ধ্বংস করেছে ভারতীয় মিসাইল। এরপরই উত্তর ও পশ্চিম ভারতের শহরগুলি লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা শুরু করে পাকিস্তান। জবাব দেয় ভারতও। ৭ মে শুরু হওয়া ওই অঘোষিত যুদ্ধ চলে ৮৮ ঘণ্টা ধরে। ১০ মে বিকেলে হয় যুদ্ধবিরতি। যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক এখনও চলছে। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেভাগেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, আজ একটু পরই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হবে। ঠিক তাই হয়েছিল। ট্রাম্প তারপর থেকে লাগাতার দাবি করে চলেছেন যে, যুদ্ধবিরতির কারিগর তিনিই। যা ভারত অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার ভারতের সেনাপ্রধান বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের মধ্যে কথা হয়েছে। কিন্তু সেই আলোচনায় পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত কোনো কথাই হয়নি। সেনাপ্রধানের দাবি পাকিস্তানকেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অপারেশন সিন্দুর স্থগিত করা হয়েছে তাদের আবেদনে। কিন্তু সমাপ্ত হয়নি। সেনাপ্রধান বলেন, সুতরাং আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত শুধু নয়, এবার পাকিস্তান যদি পুনরায় কোনও ‘মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ করার চেষ্টা করে, তাহলে সবথেকে কঠোর জবাব পাবে। সেই জবাব যাতে তাৎক্ষণিক দেওয়া যায়, সেটি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীগুলির সঙ্গে সেনা, বায়ুসেনা, নৌবাহিনী, গোয়েন্দা ও গুপ্তচর সংস্থাগুলির সমন্বয় করা হচ্ছে। সেনাপ্রধান সীমান্ত পরিস্থিতিকে স্পর্শকাতর আখ্যা দিয়েছেন।