• সংঘ-বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক চীনা প্রতিনিধি দলের, সরব কংগ্রেস
    বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘লাল চোখ’ দেখানোর পরিবর্তে ‘লাল সেলাম?’ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিজেপির সাক্ষাতকে এভাবেই কটাক্ষ করল কংগ্রেস। রাহুল কিংবা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে চীনের কোনও প্রতিনিধির সাক্ষাৎ হলে যারা সবচেয়ে বেশি সমালোচনায় সরব হত, সেই বিজেপিই এখন আওড়াচ্ছে উলট পুরাণ! যে বামেদের প্রবল সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এখন তাঁর দলই যে সাক্ষাৎ করছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে। যা ফলাও করে প্রচারও করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

    তাই সুযোগ হাতছাড়া না করে মঙ্গলবার বিজেপির কড়া সমালোচনা করল কংগ্রেস। প্রশ্ন তুলল, যে চীন অরুণাচলের অংশ দখল করছে, গলওয়ানে সীমানারেখা মানছে না, এমনকি অপারেশন সিন্দুরকে ব্যর্থ করার চেষ্টায় ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে, সেই কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন সাক্ষাৎ বিজেপির? এখানেই শেষ হয়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দপ্তর করোলবাগের কেশবকুঞ্জেই বা কীসের বৈঠক? সওয়াল খাড়া করে খড়্গহস্ত হয়েছে মল্লিকার্জুন খাড়্গের দল। 

    সোমবার নয়াদিল্লির ৬-এ দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়েছিল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির এক প্রতিনিধিদল। ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হুইয়ান। সঙ্গে আরও পাঁচজন। ভারতে চীনের রাষ্ট্রদূত জু ভিহঙও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অভ্যর্থনা জানিয়ে বৈঠক করেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য তথা দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং। বৈঠকের পর তিনি নিজেই ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে টুইট করে জানিয়েছেন, ‘বিজেপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ মজবুত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ মঙ্গলবার আবার ওই প্রতিনিধিদল দেখা করেন আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসেবালের সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাখানেক বৈঠক হয়। সংঘের শীর্ষনেতা হোসেবালে এটিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি চীনা প্রতিনিধি দলই সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিল। তবে ঘটনা সামনে আসার পরই সরব হয়েছে কংগ্রেস।

    মঙ্গলবার বিজেপিকে তুলোধনা করেছেন কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা। তাঁর প্রশ্ন, নরেন্দ্র মোদি আর তাঁর দল বিজেপি  চীনের কাছে নতি স্বীকার করেছে। বিজেপির ভণ্ডামি ভারতের বিদেশনীতিকে বিভ্রান্ত করছে। নষ্ট হয়েছে জাতীয় স্বার্থ। দক্ষিণ ডোকা লা হয়ে শিলিগুড়ি করিডোরে ঢোকার চেষ্টা করছে চীন। অথচ মোদি সরকার ঘুমিয়ে আছে। গলওয়ানের সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা শহিদ হলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনকে লাল চোখ দেখাবেন বলে হুমকি দিলেন। এখন তাঁর দল লাল সেলাম করছে। রুদ্ধদ্ধার কী আলোচনা হল, তা প্রকাশ করতে হবে বিজেপিকে। 
  • Link to this news (বর্তমান)