ইসরোর অভিযানে ব্যর্থতার মাঝে আশার আলো, টিকে রইল স্পেনের স্যাটেলাইট
বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
বেঙ্গালুরু: বছরের শুরুতেই বড়োসড়ো ধাক্কা খেয়েছে ইসরো। ব্যর্থ নতুন বছরের প্রথম অভিযান। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি পিএসএলভি-সি৬২ রকেট। ফলে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছানোর আগেই মহাকাশে হারিয়ে যায় ১৬টি উপগ্রহ। এই ব্যর্থতার মাঝে আশার আলো দেখাল স্পেনের অর্বিটাল প্যারাডাইম। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের কেস্ট্রেল ইনিশিয়াল ডেমনস্ট্রেটর (কেআইডি) ক্যাপসুলটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। তাদের দাবি, উৎক্ষপণের পর রকেট থেকে আলাদা হয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহটি। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করে পৃথিবীতে তথ্যও পাঠিয়েছে। অর্থাৎ যাবতীয় ধাপ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেছে এই স্প্যানিশ উপগ্রহ।
ফুটবলের আকারে তৈরি এই প্রোটোটাইপের ওজন ২৫ কেজি। পিএসএলভি-তে থাকা ১৬ স্যাটেলাইটের অন্যতম এই কেআইডি। উৎক্ষেপণের তৃতীয় ধাপে রকেটে ত্রুটির কারণে মূল পেলোড নষ্ট হয়ে যায়। তবে যাবতীয় প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চতুর্থ ধাপে রকেট থেকে আলাদা হয়ে যায় স্পেনের স্যাটেলাইটটি। এবিষয়েএক্স হ্যান্ডলে অর্বিটাল প্যারাডাইম জানিয়েছে, ‘আমদের কেআইডি ক্যাপসুল পিএসএলভি সি৬২ রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সক্রিয় হয়েছে। তারপর তিন মিনিটের বেশি সময় ধরে তথ্য পাঠিয়েছে। আমরা উপগ্রহটির গতিপথ বোঝার চেষ্টা করছি। প্রবল গরম আর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির চাপ সহ্য করা গিয়েছে। অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।’
কোনও মহাকাশযানের দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে সফল অবতরণের ক্ষেত্রে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে হয়। এব্যাপারে পরীক্ষার লক্ষ্যেই কেআইডি বানানো হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ক্যাপসুলটি এমন তাপমাত্রা ও চাপ সহ্য করেছে যা সাধারণত পরীক্ষামূলক হার্ডওয়্যারকে ধ্বংস করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ঠিকঠাক থাকলে কেআইডি’র পাঠানো তথ্য ভবিষ্যৎ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সোমবার সকাল ১০টা ১৭ নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে পাড়ি দেয় পিএসএলভি-সি৬২। অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ডিআরডিও’র তৈরি অন্বেষা উপগ্রহটির সফল প্রতিস্থাপন। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ নির্বিঘ্নেই অতিক্রম করে ইসরোর নির্ভরযোগ্য রকেট। তৃতীয় ধাপে আচমকা যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। ইসরোর বিবৃতি অনুযায়ী, ইঞ্জিনে চাপজনিত সমস্যার কারণে রকেটটি নির্ধারিত পথ থেকে সরে যায়। ফলে সঙ্গে থাকা উপগ্রহগুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায়।